0%

মোদীর আবেদনেও কমছে না সোনার চাহিদা! দাম কমতেই আবার ভিড় গয়নার দোকানে – সবদিক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মানুষের কাছে এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারের উপর চাপ কমানো এবং মূল্যবান ধাতুর আমদানি হ্রাস করা। কিন্তু সেই আহ্বানের পরও ভারতে সোনার চাহিদা ফের বাড়তে শুরু করেছে বলে বাজার সূত্রে খবর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমে যাওয়াতেই ক্রেতারা আবার গয়নার দোকানে ফিরতে শুরু করেছেন। ভারতে সোনা শুধুমাত্র একটি বিনিয়োগ নয়, বরং তা সামাজিক রীতি, বিবাহ অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে দাম কমলেই ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে।

– বিজ্ঞাপন –

চলতি সপ্তাহে সোনার দাম ২ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। বৃহস্পতিবার প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়ায় ১,৪৬,৪৪৪ টাকা। সপ্তাহের হিসাবে দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ কমেছে। এই মূল্য সংশোধনের জেরেই গয়নার বাজারে নতুন করে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

হায়দরাবাদ-ভিত্তিক বুলিয়ন ব্যবসায়ী সংস্থা ক্যাপসগোল্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর চন্দা ভেঙ্কটেশ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মূল্য পতনের ফলে বিশেষ করে গয়না ক্রেতাদের মধ্যে কেনাকাটার প্রবণতা বেড়েছে। তাঁর মতে, দাম কমার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন বহু ক্রেতা।

এদিকে, কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। সরকারের আশা ছিল, এতে আমদানি কমবে এবং সোনার চাহিদাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে বাস্তবে বাজারে তার তেমন প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

মুম্বইয়ের এক বুলিয়ন ব্যবসায়ীর মতে, জুয়েলারির দোকানগুলি নতুন করে মজুত বাড়াতে শুরু করেছে। যদিও আগামী কয়েক মাসে খুচরো বাজারের চাহিদা কতটা শক্তিশালী হবে, তা নিয়ে এখনও কিছুটা সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারের ঘটনাবলিও সোনা ও রুপোর দামে প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম, মার্কিন ডলারের সূচক এবং শেয়ারবাজারের ওঠানামা— সবই মূল্যবান ধাতুর বাজারকে প্রভাবিত করছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ এমসিএক্সে (MCX) সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১,৪৯,৯৪২ টাকা। আগের দিনের তুলনায় দাম বৃদ্ধি পায় ১,০২১ টাকা। একই সময়ে রুপোর দাম বেড়ে ২,৪২,২৩২ টাকায় পৌঁছয়, যা ২,৫৭৯ টাকা বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত কিছু ইতিবাচক মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। তারও প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে।

এনরিচ মানির সিইও পনমুদি আর জানিয়েছেন, সোনার দামে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত মিললেও এখনও স্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত হয়নি। তাঁর মতে, ১,৫৫,০০০ টাকার উপরে স্থায়ীভাবে উঠে যেতে পারলেই সোনার বাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি নিশ্চিত হবে।

রুপোর ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে আরও শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ স্তর অতিক্রম করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, সরকারি আহ্বান এবং আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পরও ভারতে সোনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমেনি। বরং দাম কমতেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বাজার। ঐতিহ্য, সঞ্চয় এবং গয়নার চাহিদা— এই তিনের জোরেই দেশের সোনার বাজারে আবারও প্রাণ ফিরছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker