তিব্বতে ভূমিকম্পে মৃত ১৮, ধূলিসাৎ ৩০০ বাড়ি! পাহাড়ে ভয়াল কম্পনে নয়া দুর্যোগের শঙ্কা

বৃহস্পতিবার রাত ৮ বেজে ৩ মিনিটে (স্থানীয় সময় ১০টা বেজে ৩৩ মিনিটে) তিব্বত এবং চিনের সংলগ্ন অঞ্চলে ৭ মাত্রার ভয়ংকর ভূমিকম্প হয়। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়ি ভেঙে ধ্বংস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভয়াবহ ভূমিকম্পে কয়েক শো বাড়ি গুঁড়িয়ে গিয়েছে। গতকালই চিনের আর্থকুয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টার জানিয়েছিল, উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নাগকু থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার (১২০ মাইল) উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি অঞ্চল, যা তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ৩৯০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে।
JUST IN: At least 16 dead, 32 injured and hundreds of homes collapsed after a magnitude 7.0 earthquake struck Tibet, China, officials say. https://t.co/2nTZ5BL4CU
— Scope Report (@ScopeReport_) October 22, 2026
চিনের একটি টেলিভিশন চ্যানেল এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, পাহাড়ি অঞ্চলের কম্পনের উৎসস্থলের সংলগ্ন এলাকায় মোট ৩৩৯টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বাড়ি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে আহতের সংখ্যা ৪৬। এদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ৩০০ পুলিশকর্মী, উদ্ধারকারী দল, স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছেন। একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, কম্পন শুরু হতেই শহরে একটি সুপার মার্কেট লাগোয় রেস্তরাঁ থেকে ছুটে বেরিয়ে আসেন অনেকে। এরপরই ভাঙতে শুরু করে ভবনের একাংশ।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিব্বতের গ্রামীণ অঞ্চল টিংরি প্রদেশে ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জনের মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের মাস খানিক পর ভূকম্পটি আঘাত হানল। আগের ভয়াবহ দুর্যোগে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। মাঝে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ মন্তব্য করেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের হয়তো আর কখনওই খুঁজে পাওয়া যাবে না।
আগস্টের শেষের দিকে নেপাল ও চিনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলের কাছে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর ফলেই ভূমিধস ও আকস্মিক ভয়াল বন্যা সৃষ্টি হয়েছিল। যার ফলে ভেসে যায় নেপালের নির্দিষ্ট নদী তীরবর্তী উপত্যকাগুলি। এর ফলেই ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। অসংখ্য স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটক আজও নিখোঁজ। নতুন করে বড়সড় ভূমিকম্পে বিজ্ঞানীরা শঙ্কিত, ফের হিমাবহ ধসে বিপর্যয় ঘটবে না তো?
শেয়ার
লিংক



