প্রতিরক্ষা-মহাকাশ থেকে শুরু করে সন্ত্রাসদমন! একাধিক ক্ষেত্রে সম্মতি, আরও গভীর হচ্ছে ভারত পোল্যান্ড সম্পর্ক

সবদিক নিউজ:পোল্যান্ডের (India-Poland) প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের (Donald Tusk) তিন দিনের ভারত সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, পরমাণু শক্তি থেকে শুরু করে বাণিজ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ হোক কিংবা পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি আন্তরিক ও অর্থপূর্ণ উদ্যোগকে সমর্থন করবে ভারত। অন্যদিকে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করে দেশটিকে বিশ্বের কাছে ‘আশার আলো’ বলে বর্ণনা করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। এই বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে ভারত-পোল্যান্ড (India-Poland):
প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং পারমাণবিক শক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের রাষ্ট্রনেতা। মোদী পোল্যান্ডের প্রথম সারির প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে পোলিশ সংস্থাগুলির সামনে উন্নত প্রযুক্তির বিকাশ এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও সম্পর্ক আরও গভীর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পোলিশ ভাষা শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো, ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের আদানপ্রদান এবং যৌথ গবেষণার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের জাতীয় আর্কাইভের মধ্যে সহযোগিতার চুক্তিও চূড়ান্ত হয়েছে, যা শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। খেলাধুলা, পর্যটন, যুব বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমেও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পুলিশের অনুমতি না নিয়েই শুক্রবার দিল্লিতে জ্ঞানেশ বিরোধী মিছিল! আমন্ত্রিত অভিজিৎ-নেহা বোরা
দুই দেশের বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক যোগসূত্রও উঠে এসেছে মোদী-টাস্ক বৈঠকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারত হাজার হাজার পোলিশ মহিলা ও শিশুকে আশ্রয় দিয়েছিল। সেই মানবিক উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। ওয়ারশতে মহারাজা জাম সাহেব এবং মহারাজা কোলহাপুরের স্মৃতিস্তম্ভগুলিকে ভারত-পোল্যান্ড বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। জাম সাহেব মেমোরিয়াল ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের দুটি পর্বেরও প্রশংসা করা হয়েছে, যার সর্বশেষ সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয় অক্টোবরে। এ ছাড়া, ইউক্রেনে যুদ্ধের সময় ‘অপারেশন গঙ্গা’র মাধ্যমে ভারতীয় পড়ুয়াদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগে পোলিশ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কথাও স্বীকার করেছে ভারত। ওই সময় ইউক্রেনে আটকে পড়া ২,০০০-এরও বেশি ভারতীয় পড়ুয়াকে সাহায্য করেছিল পোল্যান্ড।
আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে পোল্যান্ড। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী—উভয় ধরনের সদস্যপদ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে দুই দেশ। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে পোল্যান্ড। ২০২৮-২৯ মেয়াদে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আসনের জন্য ভারতের প্রার্থিতার প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা। ইউক্রেনের যুদ্ধের মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রসংঘের সনদ, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ। সন্ত্রাসবাদে অর্থের জোগান বন্ধ করা, জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মূল করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেছেন তাঁরা।

নজরে জেন জি! ইনস্টাগ্রামে ‘এন্ট্রি’ সোনিয়া গান্ধীর, প্রথম রিলেই বিশেষ চমক
ভারত ও পোল্যান্ডের (India-Poland) আলোচনায় উঠে এসেছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও। একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা। ভারত পোল্যান্ডকে ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেনস ইনিশিয়েটিভে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, টেকসই প্রযুক্তি এবং জলবায়ু-সহনশীল পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো জোটে পোল্যান্ডের যোগ দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক সৌর জোট ও বৈশ্বিক জৈবজ্বালানি জোটে যোগ দেওয়ার জন্যও ওয়ারশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত ও কার্যকর করার উপর জোর দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।




