0%

‘মীরজাফর রাহুল গান্ধী’, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিস্ফোরক রিপোর্ট ঘিরে কংগ্রেস-বিজেপি ধুন্ধুমার

ভারতে এসআইআরে তথাকথিত অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন অব্যাহত, সেই একই সময়ে ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছে। এই দুই আন্দোলনের মধ্যে যোগসূত্রে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বিস্ফোরক প্রতিবেদনে। বিষয়টি সামনে আসতেই কংগ্রেসকে লাগামছাড়া আক্রমণ শুরু করেছে বিজেপি। পালটা তোপ দাগছে কংগ্রেসও।

ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদনে ভারত, ফ্রান্স, ইটালি-সহ বিশ্বের ১৩টি দেশে ১০১টি এমন সংগঠনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা বিক্ষোভের সমন্বয়, আয়োজন বা প্রসারে ভূমিকা রাখছে। এই অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ফ্রান্সের অস্থিরতার সঙ্গে ভারত-সহ অন্যান্য দেশে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভগুলির যোগসূত্র টানা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ‘ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিস’ (আইএপি) নামের একটি গ্রুপকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফক্স নিউজের দাবি, ফ্রান্স ও ভারতের বিক্ষোভের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে এই সংগঠনটি।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র-যুব সংগঠনের পাশাপাশি কমিউনিস্ট, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির তথাকথিত ‘রেড-গ্রিন নেটওয়ার্ক’ বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। আঙুল তোলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক ও শাংহাই-ভিত্তিক ধনকুবের নেভিল রয় সিংহমের অর্থপুষ্ট বামপন্থী নেটওয়ার্ক এবং ‘প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল’ নামে সংগঠনের দিকেও।

বিষয়টিকে সামনে রেখে আসরে নেমেছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার গেরুয়া দলটি দাবি করেছে, এই প্রতিবেদনটি কংগ্রেসের “নৈরাজ্য ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র” ফাঁস করে দিয়েছে। এইসঙ্গে রাহুল গান্ধীকে “গদ্দার” (বিশ্বাসঘাতক) বলে অভিহিত করেছে তারা। কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া বলেছেন, “বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দেশের সামনে নৈরাজ্য ও ‘গদ্দারির’ (বিশ্বাসঘাতকতার) এক দৃষ্টান্ত তুলে ধরছেন।”

গৌরব আরও বলেন, “আজ একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, কীভাবে বিশ্বাসঘাতকতার এই কথিত যোগসূত্রগুলো বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত। প্রশ্ন তোলা কি ভুল হবে যে, এই বিশ্বাসঘাতকদের নেতা কে?” এরপর সরাসরি বিজেপি নেতা বলেন, “ভারতের দুর্ভাগ্য যে বিরোধী দলের নেতা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অপরিণত। আর আমি যদি আপনাদের সামনে প্রমাণ তুলে ধরি, তবে তাঁকে দেশদ্রোহী বা মীরজাফর বললেও ভুল হবে না।”

বিজেপির অভিযোগের জবাবে মুখ খুলেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সরকার মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে জনগণের নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটচুরি কোনও মনগড়া অভিযোগ নয়, প্রমাণিত সত্য। এর ফলে ১০ কোটিরও বেশি ভারতীয় নাগরিক সংবিধান প্রদত্ত ভোটাধিকার হারানোর মতো সঙ্কেটের মুখে পড়েছে।’’

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker