0%

‘জামাইবাবু’ মারধর করেন! ভয়ে সুড়ঙ্গে লুকিয়ে কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফের ভাই, তারপর…

টেনিস কোর্টে স্টেফি গ্রাফের (Steffi Graf) জীবন রূপকথার মতো। ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী জার্মান কিংবদন্তি স্বামী আন্দ্রে আগাসির সঙ্গে সুখে সংসার করছেন লাস ভেগাসে। কিন্তু তাঁর ভাই মাইকেল গ্রাফের জীবনে চরম বৈপরীত্য। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও। পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে ৫৫ বছর বয়সি মাইকেল লাস ভেগাসের এক গোপন সুড়ঙ্গে দিন কাটাচ্ছেন। তবে এ হেন মাইকেল তাঁর ‘জামাইবাবু’ আগাসির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগও করেছেন। 

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেছেন মাইকেল। সেখানে তাঁকে গ্রাফিতিতে ভরা দেওয়ালের সামনে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওতে ভগ্নিপতি আগাসিকে নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি। দাবি করেছেন, এক সময় আগাসি তাঁকে মারধর করতেন। মাইকেলের কথায়, “আন্দ্রে আমাকে যত জোরে সম্ভব মারত। আমার ধারণা, ও এটা উপভোগ করত।” তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। আপাতত এ বিষয়ে আগাসির প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।

সুড়ঙ্গে থাকা অবস্থায় মাইকেল। ছবি সংগৃহীত।

লাস ভেগাসের প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের একাংশে গৃহহীন মানুষেরা আশ্রয় নেন। মাইকেল কত দিন ধরে সেখানে রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে লেক মিড অঞ্চলে তাঁবু খাটিয়ে থাকার খবরও প্রকাশ্যে এসেছিল। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনধিকার প্রবেশের একটি মামলায় আদালতের শর্ত ভাঙার অভিযোগে মাইকেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর গাড়িতে খোলা মদের গ্লাস পাওয়া যায়। এর পর মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে উঠেছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে ২৬ মার্চ আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়।

এর আগেও আইনি সমস্যায় জড়িয়েছেন মাইকেল। ২০২০ সালে লাস ভেগাসে হিংসাত্মক আচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। সে সময় ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্টেফি। সুইস সংবাদমাধ্যম ‘ব্লিক’-এর দাবি, ভাইয়ের জন্য বাড়ি কেনা, আইনজীবীর খরচ বহন করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর চলতি বছরের গোড়ায় নিজের বাড়ি ছাড়েন মাইকেল। তার পর কখনও মরুভূমিতে, কখনও টেসলা গাড়িতে দিন কাটানোর খবর সামনে আসে। আগস্টে আগুনে তাঁর শিবির পুড়ে যায়। সেপ্টেম্বরে গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন বলেও জানা যায়।

Steffi Graf’s brother reportedly hides in Las Vegas tunnels, evading police.
১৯৮৯ সালে ফ্লোরিডার ডেলরে বিচে হাইডি, পিটার, মাইকেল এবং স্টেফি গ্রাফ। ছবি সংগৃহীত।

ভাইয়ের এমন হাল হলেও স্টেফি ও আগাসির দাম্পত্যে সুখের ছবি। সম্প্রতি একসঙ্গে টেনিস খেলার ভিডিও পোস্ট করে আগাসি লিখেছেন, ‘জেগে থেকেও স্বপ্ন দেখতে কী সুন্দর!’ ২০১৪ সালে ‘হ্যালো’ পত্রিকাকে স্টেফি জানিয়েছিলেন, আগাসির জন্ম ও বেড়ে ওঠা লাস ভেগাসে হওয়ায় শহরটির সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সম্পর্ক গভীর হয়েছিল। স্টেফির কথায়, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমার মা লাস ভেগাসে চলে আসেন। তার পরে আমার ভাই ও ওর চার সন্তানও এখানে আসে। ফলে পরিবারের সবাই একসঙ্গে রয়েছে। ভাইবোনের ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে বড় হচ্ছে। এটা সত্যিই দারুণ!”

একটা সময় সুখী পরিবার নিয়ে গর্ব করেছিলেন স্টেফি। সেই পরিবারের সদস্য ছিলেন তাঁর ভাই মাইকেলও। তবে এখন সেই মাইকেলের জীবন অনিশ্চয়তায় ঘেরা। একদিকে স্টেফি ও আগাসির সুখী দাম্পত্য। অন্যদিকে, মাইকেলের গৃহহীনতার খবর ও আইনি জটিলতা। নেভাডায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। গ্রাফ পরিবারের এই দুই বিপরীত ছবি এখন আলোচনায়।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker