যুদ্ধবিরতিতে ‘মধ্যস্থতা’ করলেও পাকিস্তানের ওপর নেই ভরসা! কী জানাল ইজরায়েল?

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল (Iran-Israel War) যুদ্ধে নাটকীয় মোড়। লেবাননে নতুন করে ইজরায়েলের হামলার জেরে কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধবিরতি। এরই মধ্যে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে পাকিস্তানের ভূমিকা। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।
ইরান-ইজরায়েল (Iran-Israel War) যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করলেও পাকিস্তানের ভূমিকা অবিশ্বাসযোগ্য?
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজার জানান, “আমরা পাকিস্তানকে নিরপেক্ষ বা বিশ্বাসযোগ্য পক্ষ হিসেবে দেখি না।” তাঁর মতে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নেওয়ার পিছনে আমেরিকার নিজস্ব কিছু কৌশল থাকতে পারে। অতীতে হামাসের সঙ্গে আলোচনায় আমেরিকা কাতার এবং তুরস্কর মতো দেশগুলির সাহায্য নিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সফল হতে গেলে আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা উল্লেখযোগ্যভাবে জরুরি।
আরও পড়ুন: কলকাতার বুকে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ভেস্তে দিল STF, ধরা পড়ল ১৭ বছরের কিশোর, কী পরিকল্পনা ছিল?
ইজরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য সম্পর্কেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন আজার। তাঁর কথায়, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং সেখানকার সাধারণ মানুষের জন্য ভবিষ্যতের পথ তৈরি করাই ছিল ইজরায়েলের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, সেই লক্ষ্য অনেকটাই অর্জিত হয়েছে। তবে ইরান যদি কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহ না দেখায়, তাহলে ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে ইজরায়েল পিছপা হবে না। এই অবস্থানের সঙ্গে একমত ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও।
এদিকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। নেতানিয়াহু এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননের কোনও উল্লেখ নেই। তাই লেবাননে হামলা চালানো থেকে ইজরায়েল বিরত থাকবে, এমন কোনওরকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছেন জেডি ভ্যান্স।
আরও পড়ুন: ‘মহাভারত AI’ থেকে ‘ভজন ক্লাবিং’ ২০২৫ সালে জেন-জিদের গুগল সার্চ লিস্টে কি কি ছিল?
এদিকে আবার, ইরানের (Iran-Israel War) বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আমেরিকার ভূমিকাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকাকে ঠিক করতে তারা যেমন শান্তির পথে হাঁটবে, তেমন আবার ইজরায়েলের সঙ্গে থেকে যুদ্ধও চালিয়ে যাবে। এই টানাপোড়েনের মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে, আর আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।



