0%

রাম মন্দিরে মহাচুরি! যোগীর সিট রিপোর্টে ফাঁস মারাত্মক কেলেঙ্কারি, ক্ষোভে ফেটে পড়ল VHP

সবদিক নিউজ: যে রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে, এবার সেই রাম মন্দিরের গর্ভগৃহের দানবাক্স ও অনুদান ব্যবস্থাপনায় কোটি কোটি টাকার বেনিয়ম ও চুরির অভিযোগে তোলপাড় শুরু হল। অযোধ্যার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি সম্মুখসমরে নেমে পড়েছে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে এই ঘটনায় দ্রুত এফআইআর (FIR) দায়ের করে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে রোজ শুনানির মাধ্যমে বিচারের দাবি জানিয়েছে ভিএইচপি। তাদের স্পষ্ট দাবি, মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় যে মারাত্মক দুর্নীতি হয়েছে, তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

আসলে ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার, যখন উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে রাম মন্দিরের এই চুরির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT)। সেই রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। সিট জানিয়েছে, রাম মন্দির ব্যবস্থাপনার প্রায় প্রতিটি স্তরেই চরম গলদ রয়েছে। পুণ্যার্থীদের সিকিউরিটি চেক থেকে শুরু করে দানবাক্স থেকে টাকা বের করা এবং সেই টাকা গোনার প্রক্রিয়া, সর্বত্রই রয়েছে মারাত্মক অস্বচ্ছতা। চুরি রুখতে সিটের তরফে একাধিক জরুরি বদলের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জানানো হয়েছে, মন্দির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক বেনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

বিজেপির ওপর খড়্গহস্ত ভিএইচপি প্রধান, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের দাবি

সিটের এই বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি চরমে। যোগী সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় সভাপতি অলোক কুমার সাফ জানিয়েছেন, “বেনিয়মের যখন যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে, তখন আর দেরি কেন? অবিলম্বে রাম মন্দিরের চুরির ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে হবে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে প্রতিদিন শুনানি করে এই মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে এবং দোষীদের কঠোরতম সাজা দিতে হবে।”

চম্পত রাই কাঠগড়ায়, নিজেদের বাঁচাতে আসরে ভিএইচপি?

তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। সিটের রিপোর্টে গোটা সিস্টেমে যে চরম অব্যবস্থা ও চুরির কথা বলা হচ্ছে, সেই সিস্টেমের শীর্ষে কিন্তু বসে রয়েছেন খোদ বিশ্ব হিন্দু পরিষদেরই নেতারা। শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই নিজেও এখন এই কেলেঙ্কারিতে কাঠগড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুরির ঘটনায় যেহেতু বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বড় বড় নেতাদের দিকেই দুর্নীতির আঙুল উঠছে, তাই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে এবং ‘আমরাও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই’, এটা আমজনতাকে বোঝাতেই এভাবে প্রকাশ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে রণংদেহি মূর্তি ধারণ করেছে ভিএইচপি। তবে কারণ যাই হোক, রামলালার টাকার এই কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ এবং মোদি সরকারের অস্বস্তি যে এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker