বৈঠকে অনুপস্থিত ২৩ বিধায়ক, উদ্ধব শিবিরে ভাঙনের পর মহারাষ্ট্রে অন্য বিরোধী দলেও ভাঙন

সবদিক নিউজ: মহারাষ্ট্রের বিরোধী রাজনীতিতে কি আরও বড় ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে? উদ্ধব ঠাকরের শিব সেনায় সাম্প্রতিক ভাঙনের পর এবার মহাবিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ) জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বুধবার বিরোধী জোটের বৈঠকে একাধিক শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতি নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।
সম্প্রতি উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিব সেনায় বড় ধাক্কা লাগে। দলের ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জন একযোগে একনাথ শিণ্ডের শিব সেনায় যোগ দেন। এর ফলে লোকসভায় উদ্ধব শিবিরের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র তিনে। গত কয়েক বছরে এটি উদ্ধব শিবিরে দ্বিতীয় বড় ভাঙন। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবির যে এখনও ঐক্যবদ্ধ রয়েছে, সেই বার্তা দিতেই বুধবার মহারাষ্ট্রে মহাবিকাশ আঘাড়ির বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠকেই সামনে আসে অন্য ছবি। বর্তমানে মহারাষ্ট্রে বিরোধী শিবিরের মোট বিধায়ক সংখ্যা ৬০ হলেও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩৭ জন বিধায়ক। অর্থাৎ, ২৩ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী)-র প্রধান শরদ পওয়ার। অনুপস্থিত ছিলেন দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা জয়ন্ত পাটিলও। কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি নানা পাটোলে এবং দলের বর্ষীয়ান নেতা বিজয় ওয়াদ্দিতও বৈঠকে যোগ দেননি।
যদিও বৈঠক শেষে উদ্ধব ঠাকরে দাবি করেন, মহাবিকাশ আঘাড়ির শরিকরা সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং জোটে কোনও ভাঙনের আশঙ্কা নেই। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এত সংখ্যক বিধায়কের অনুপস্থিতি এবং শরদ পওয়ারের মতো নেতার বৈঠকে না থাকা জোটের অভ্যন্তরে অস্বস্তির ইঙ্গিত বহন করছে।
অন্যদিকে, শরদ পওয়ারের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও তাঁর পরিবারের দাবি, অসুস্থতার কারণেই তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে উদ্ধব শিবিরে সাম্প্রতিক ভাঙনের পর মহাবিকাশ আঘাড়ি জোট কতটা অটুট রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের বিরোধী রাজনীতিতে আরও কোনও রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



