৪ মাস বন্ধ মিড-ডে মিলের বরাদ্দ, ঋণে ডুবে হাওড়ার স্কুলগুলো

AK Bangla Desk: চার মাস ধরে আসেনি মিড-ডে মিলের বরাদ্দ। অথচ পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। ফলে দোকান থেকে ধার করে কোনও রকমে পিএম পোষণ প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছেন হাওড়ার একাধিক স্কুলের শিক্ষকরা। বকেয়া বাড়তে থাকায় এখন দোকানিদের সামনে পড়তেও অস্বস্তি হচ্ছে তাঁদের। হাওড়ার বালি-জগাছা ব্লকের কয়েকটি স্কুলে এই পরিস্থিতি সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু হাওড়া নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্কুলেও মিড-ডে মিল প্রকল্পের অর্থসংকট দেখা দিয়েছে বলে স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে খবর। বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মে মাসে পিএম পোষণ প্রকল্পের বাজেট তৈরি করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই খাতে ১,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জুনের শুরুতেই কেন্দ্রের কাছে অর্থ চেয়ে আবেদন জানায় রাজ্য। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সেই খাতে কেন্দ্রের কাছ থেকে কোনও টাকা পাওয়া যায়নি বলে দাবি দফতরের।
কেন্দ্রীয় বরাদ্দ না পৌঁছনোয় রাজ্যের বহু স্কুলের সঞ্চিত অর্থও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে বিভিন্ন স্কুলে মিড-ডে মিল পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও বিকাশ ভবন থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই প্রকল্প বন্ধ করা যাবে না। এক দিনের জন্যও পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার বন্ধ রাখা যাবে না বলে স্কুলগুলিকে জানানো হয়েছে। দফতরের দাবি, বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। অর্থ রাজ্যের হাতে পৌঁছলেই বর্তমান সমস্যা মিটে যাবে। স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ স্কুলকে তিন থেকে চার মাসের খরচ সামলানোর জন্য অগ্রিম কিছু অর্থ দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়েই প্রাথমিকভাবে প্রকল্প চালানো হয়। পরে পূর্ণ বরাদ্দ পৌঁছলে ঘাটতি মিটিয়ে নেওয়া হয়। তবে সব স্কুল সমান পরিমাণ অর্থ পায় না। পড়ুয়ার সংখ্যা কম এবং নিজস্ব তহবিল সীমিত—এমন স্কুলগুলিই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে।
উত্তরবঙ্গের এক প্রধানশিক্ষকের বক্তব্য, সরকারি অর্থ নির্দিষ্ট খাত ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করা যায় না। পাশাপাশি পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি হলে বরাদ্দ ও স্কুলের তহবিল তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কিন্তু ছোট স্কুলগুলির নিজস্ব তহবিল প্রায় না থাকায় দীর্ঘদিন সরকারি টাকা না এলে প্রকল্প চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। নদিয়ার একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনও স্কুলে ৮০০ পড়ুয়া থাকলে পুরসভা থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হতে পারে। সেখানে মাসিক খরচ এক লক্ষ টাকা হলে কিছু অর্থ জমে যায়। ফলে ওই ধরনের স্কুল কয়েক মাস সংকট সামলাতে পারে। কিন্তু কম পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলির ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। হাওড়ার বালি-জগাছা ব্লকের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, শেষবার গত মার্চে টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তারপর আর কোনও অর্থ আসেনি। স্থানীয় মুদির দোকানে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার টাকা ধার হয়েছে। বকেয়া না মেটায় দোকানির সামনে পড়তেও অস্বস্তি হচ্ছে তাঁদের। এভাবে আর কতদিন পরিষেবা চালানো সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানিয়েছেন, তিনি গত জুনে অর্থ পেয়েছেন এবং জুলাই পর্যন্ত অগ্রিম বরাদ্দ রয়েছে। তবে পরবর্তী বরাদ্দ সময়মতো না এলে তাঁর স্কুলেও সমস্যা তৈরি হবে।



