“অনুপ্রেরণা নয়, পরিষেবা দিন!”, নবান্নে প্রথম বৈঠকেই আমলাদের ১০ দফা নির্দেশ শুভেন্দুর

সবদিক নিউজ: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এক সময় স্লোগান দিয়েছিলেন ‘ডু ইট নাও’। কিন্তু বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই পথে না হেঁটে প্রথম দিনেই অনেক বেশি সোজাসাপ্টা। সোমবার নবান্নে মুখ্য সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ-সহ সমস্ত দফতরের সচিবদের নিয়ে বৈঠকে বসেই প্রশাসনিক স্তরে বড় পরিবর্তনের ডাক দিলেন তিনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, “সরকার এবার ‘ফর দ্য পার্টি’ নয়, হবে ‘ফর দ্য পিপল’।”
‘অনুপ্রেরণা’ কালচারের ইতি
বিগত সরকারের আমলে প্রতিটি সরকারি প্রকল্পের গায়ে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায়’ লেখা বাধ্যতামূলক ছিল। সোমবার সেই প্রথার অবসান ঘটিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমাকে খুশি করতে আর কোথাও ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লিখতে হবে না। অনুপ্রেরণা বন্ধ করে কাজের কাজ হোক। আপনারা আমার কথা নয়, মানুষের পরিষেবার কথা ভাবুন।”
অফিসারদের সম্মান ও দায়বদ্ধতা
প্রশাসনিক মহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসারদের বকাবকি করার সংস্কৃতি অত্যন্ত পরিচিত ছিল। শুভেন্দু এদিন জানিয়ে দেন, তিনি অফিসারদের নাম ধরে ‘তুমি’ করে ডাকা বা জনসমক্ষে বকাঝকায় বিশ্বাসী নন। অফিসাররা তাঁদের যোগ্য সম্মান পাবেন, কিন্তু সেই সঙ্গে কাজের দায়বদ্ধতাও সুনিশ্চিত করতে হবে। কেউ ভুল করলে তাঁকে যথাযথ কৈফিয়ত দিতে হবে।
সচিবদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ১০ দফা ‘মাস্টারস্ট্রোক’
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আমলাদের সরাসরি বার্তা দিয়ে ১০টি বিশেষ পয়েন্ট উল্লেখ করেন:
১. সরাসরি যোগাযোগ: প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব ও সব দফতরের সচিবদের নিয়ে একটি বিশেষ ডিজিটাল গ্রুপ (হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেল) তৈরি হবে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নজর রাখবেন।
২. মর্যাদা ও দায়বদ্ধতা: অফিসারদের নাম ধরে ‘তুমি’ বলা বা মিডিয়ার সামনে বকাঝকার সংস্কৃতিতে ইতি। শুভেন্দু জানান, অফিসারদের প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে সরকার চলবে, তবে কাজের দায়বদ্ধতায় গাফিলতি হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. ভুল থেকে শিক্ষা: গত ১৫ বছরে চাপের মুখে অনেক ভুল হয়েছে স্বীকার করে শুভেন্দু বলেন, “অন্যায় দেখলে ‘না’ বলার সাহস অর্জন করতে হবে।”
৪. নির্ভয়ে পরামর্শ: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, কোনও পরামর্শ বা সমস্যা থাকলে সরাসরি তাঁকে বলা যাবে। কোনো ইতস্তত করার জায়গা নেই।
৫. ‘অনুপ্রেরণা’ বর্জন: প্রতিটি সরকারি কাজে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ শব্দটির ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, কাজ হবে মানুষের সেবায়, তাঁকে খুশি করতে নয়।
৬. মিতব্যয়িতা: সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে কড়া নির্দেশ। প্রয়োজনীয় কাজে খরচ করতে বাধা নেই, কিন্তু বিলাসিতা বা অপচয় চলবে না।
৭. অভিযোগের ঠিকানা: সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও সচিবরা তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা মুখ্য সচিবকেও জানাতে পারবেন।
৮. কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন: এতদিন বন্ধ থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করার নির্দেশ। সেন্ট্রাল ফান্ড আনানোর দায়িত্বও নেবে সরকার।
৯. সংকল্প পত্রই লক্ষ্য: নির্বাচনের আগে দেওয়া ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’ প্রতিটি দপ্তরে কার্যকর করতে হবে।
১০. ভয়মুক্ত প্রশাসন: অফিসারদের অভয় দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “অযথা ভয় পাবেন না। যাঁরা সততার সঙ্গে কাজ করবেন, আমি সর্বদা তাঁদের পাশে রয়েছি।”



