দীর্ঘ ১০ দিনের জল্পনার অবসান! ভিডি সতীশনকে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী করল কংগ্রেস

সবদিক নিউজ:দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কেরলের (Kerala) নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভিডি সতীশনের নাম ঘোষণা করল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন কেরল কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী দীপা দাশমুন্সি। এর্নাকুলাম জেলার নর্থ পারাভুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়া সতীশনই এবার কেরলের শাসনভার সামলাবেন। রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এ সি বেনুগোপালকে পিছনে ফেলে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেরালায় (Kerala) ভিডি সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করল কংগ্রেস:
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই কংগ্রেসের অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে প্রবল টানাপোড়েন শুরু হয়। মূল লড়াই ছিল বেণুগোপাল এবং সতীশনের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেরলের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। ইউডিএফ আহ্বায়ক অধুর প্রকাশ, কেপিসিসি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান তিরুভাঞ্চুর রাধাকৃষ্ণণ-সহ বহু প্রবীণ নেতার মতামতও নেওয়া হয়। কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রাক্তন সভাপতি এবং কার্যনির্বাহী সভাপতিরাও এই আলোচনায় অংশ নেন।
৫ টাকার মা ক্যান্টিনে এবার মাছ-ভাত! বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের
প্রাথমিকভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ বেণুগোপালের পক্ষেই ছিলেন বলে জানা যায়। সূত্রের খবর, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে অধিকাংশই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষে মত দেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে দেয় তৃণমূল স্তরের কর্মীদের প্রবল চাপ। কেরলজুড়ে পোস্টার, ব্যানার এবং বিক্ষোভের মাধ্যমে তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের মূল কারিগর ভিডি সতীশন। তাই মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকেই করতে হবে। এমনকী, হাইকম্যান্ড যদি কর্মীদের মত উপেক্ষা করে, তাহলে ভবিষ্যতে ওয়ানড়ে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রচারেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরলের নির্বাচনী প্রচারে সতীশন ধারাবাহিকভাবে বাম সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং বেকারত্বের ইস্যু তুলে ধরেছিলেন। তাঁর আক্রমণাত্মক প্রচার কংগ্রেসকে জনসমর্থন পেতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে যুব ভোটার এবং মধ্যবিত্তদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছিল। ফলে নিচুতলার কর্মীদের একাংশের দাবি ছিল, সংগঠনের ভিত মজবুত রাখতে এবং জনমতের প্রতি সম্মান জানাতেই সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করা প্রয়োজন।

‘মেয়ে আবার কী করবে’? UPSC-তে বাজিমাত করে IAS অফিসার হয়ে কটাক্ষের জবাব বঙ্গকন্যা শ্বেতার
অবশেষে হাইকম্যান্ডও সেই বার্তাই গ্রহণ করল। কংগ্রেস সূত্রে খবর, কর্মীদের আবেগ এবং সংগঠনের ভিতরে তৈরি হওয়া চাপকে উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যায় এবং সতীশনের নামেই সিলমোহর পড়ে। কেরলের (Kerala) রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্তকে কংগ্রেসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এতে একদিকে যেমন নিচুতলার কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হল, তেমনই ভবিষ্যতের রাজনীতিতে সংগঠনের ঐক্য বজায় রাখার বার্তাও দেওয়া হল।



