0%

অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে কতটা বাড়ল জ্বালানির দাম? কী বলছে পরিসংখ্যান?

সবদিক নিউজ:পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং হরমুজ় প্রণালী ঘিরে বাড়তে থাকা অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগামছাড়া হারে বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার থেকে ভারতেও (India) পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। গত চার বছরে এই প্রথম এক ধাক্কায় জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হলো। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত এখনও অনেক কম হারে মূল্যবৃদ্ধি করেছে এবং সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমানোর চেষ্টা করেছে।

অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে (India) কতটা বাড়ল জ্বালানির দাম?

সরকারি সূত্রের বক্তব্য, যুদ্ধ শুরুর আগে ভারত যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করত তার গড় দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৯ ডলার। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সেই দাম বেড়ে ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছে যায়। কিছু সময়ের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলারও ছাড়িয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতেও ভারত টানা ৭৬ দিন জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল। তবে এর ফলে কেন্দ্র এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার লোকসান বহন করতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 ৫,০০০ টাকা ধার করে শুরু ব্যবসা, আজ টার্নওভার ৪০ লক্ষ! বিদেশেও জনপ্রিয় শ্বেতার ‘সুই ধাগা’

সরকার তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে জ্বালানির দাম বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ এবং আমেরিকায় ৪৪ শতাংশ। সেই তুলনায় ভারতে পেট্রলের দাম বেড়েছে মাত্র ৩.২ শতাংশ এবং ডিজ়েলের দাম ৩.৪ শতাংশ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু একটি চার্ট প্রকাশ করে দাবি করেছেন, বিশ্বের বহু দেশ যেখানে জ্বালানি সঙ্কট সামলাতে রেশনিং বা কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে, সেখানে ভারত এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। বর্তমানে দিল্লিতে পেট্রলের দাম হয়েছে ৯৭.৭৭ টাকা এবং ডিজ়েলের দাম ৯০.৬৭ টাকা প্রতি লিটার। কলকাতায় পেট্রলের দাম ১০৮.৭৪ টাকা এবং ডিজ়েলের দাম ৯৫.১৩ টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সমস্যা আরও জটিল কারণ দেশটি তার মোট অপরিশোধিত তেলের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ১০ ডলার দাম বাড়লেই ভারতের আমদানি বিল ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়। পাশাপাশি সোনা আমদানির ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ বাড়ছে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের খরচও বিপুল বেড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে সরকারকে আবারও মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।

How much have fuel prices risen in India compared to other countries?

 জ্বালানি সঙ্কটের আবহে ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে সম্পন্ন মেগা ডিল

এদিকে বিরোধীরা এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন শেষ হতেই সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি বোঝা চাপানো হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব কটাক্ষ করে বলেছেন, “এ বার সামনে এগোনোর একমাত্র রাস্তা সাইকেল।” যদিও কেন্দ্রের দাবি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেও ভারত (India) পরিস্থিতি সামাল দিতে সচেতন ও নিয়ন্ত্রিত নীতি নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানো, ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাড়ানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker