তৃণমূলের কাকলিকে আমন্ত্রণ, কারা এই ‘বিশেষ বিশেষ সাংসদ’? মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে শুরু জল্পনা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক বৈঠকের ধরনেও বদলের ইঙ্গিত মিলছে। এতদিন বিরোধী বিধায়ক বা সাংসদদের প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকার নজির খুব একটা দেখা যায়নি। তবে এবার সেই প্রচলিত রীতি ভেঙে সব দলের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে দেখা গেল বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। শুধু তাই নয়, উপস্থিত ছিলেন একাধিক তৃণমূল বিধায়কও।
মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকে তৃণমূলের সাংসদরা
বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার মাত্র দুদিনের মধ্যেই বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ওই বৈঠকে দেগঙ্গার তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান, স্বরূপনগরের বিধায়ক বীণা মণ্ডল, হাড়োয়ার বিধায়ক আব্দুল মাতিন-সহ মোট ৬ জন তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। গত ১৫ বছরের তৃণমূল আমলে প্রশাসনিক বৈঠকে বিজেপি বিধায়কদের ডাক না পাওয়ার অভিযোগ বহুবার উঠেছিল।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক, এর সঙ্গে দলীয় রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা তো ডাক পাইনি ৫ বছর। আমি প্রথম দিন থেকেই বলেছিলাম, প্রশাসনিক বৈঠকে আমরা সব বিধায়কদের ডাকব। আর বিশেষ বিশেষ সাংসদদের ডাকব। আজ (মঙ্গলবার) বিশেষ বিশেষ সাংসদদের মধ্যে বারাসাতের সাংসদকে (কাকলি ঘোষ দস্তিদার) আমরা বিশেষ বিশেষভাবে ডেকেছিলাম। এসেছেন উনি। আর আমাদের দলের সাংসদদের আমরা ডাকছি সব জায়গায়। কারণ, আমাদের সাংসদদেরকে BDO-রা পর্যন্ত, OC-রা পর্যন্ত তাঁদের ফোন ধরতেন না। এই সিস্টেম তো ঠিক না। আমরা এখানে বলেছি IPS, IAS-রা জানেন, যে কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধিকে যদি সম্মান (অনার) না দেন, কীভাবে সম্মান দেবেন, সেটাও স্টেট ক্যাডার এবং ন্যাশনাল ক্যাডারে বলা আছে।”
কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ওঁকে ডাকতে বললাম। মঞ্চেও ছিলেন। যাওয়ার সময় হাত মেলালেন, বললে এরকম মিটিং আগে দেখিনি। কথাই বলতে দিত না।” এদিন প্রশাসনিক বৈঠক থেকে নতুন সরকারের জনসংযোগ কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার আপনাদের সরকার।

আরও পড়ুন : চালু নতুন পোর্টাল, যুবশক্তির জন্য কীভাবে করবেন আবেদন? রইল স্টেপ বাই স্টেপ গাইড
আগামী সপ্তাহ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন বন্ধ হবে। শুরু হবে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। শমীক ভট্টাচার্য ঠিক করেছেন আমি গ্রহণ করেছি।” রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সরকার যে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সমন্বয়ের বার্তা দিতে চাইছে, এদিনের বৈঠক থেকে সেই ইঙ্গিতও স্পষ্ট হয়েছে।




