অন্নপূর্ণা যোজনায় ৩৬,০০০ কোটি! দুর্গাপুর-শিলিগুড়িতে মেট্রো, বঙ্গবাসীকে বাজেটে বড় উপহার

সবদিক নিউজ: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধি এবং বাম্পার চাকরি ঘোষণার পর, এবার নারী ক্ষমতায়ন ও রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে একগুচ্ছ চোখধাঁধানো মাস্টারস্ট্রোক দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের দ্বিতীয় পর্বে কার্যত জনমোহিনী ঘোষণার বন্যা বইয়ে দিলেন তিনি। এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে মহিলাদের জন্য। নারী ক্ষমতায়নে বিশেষ জোর দিয়ে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী, যার জন্য এক ধাক্কায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সুবিধা পাবেন।
পাশাপাশি, গ্রামীণ কর্মসংস্থানে বড়সড় উপহার দিয়েছে নতুন সরকার। ‘জি রাম জি’ প্রকল্পে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পে নতুন করে আরও ২৫ লক্ষ উপভোক্তাকে যুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মানুষের মুখে সস্তায় পুষ্টিকর আহার তুলে দিতে শহরাঞ্চলে আরও ৪টি নতুন ‘মা আহার কেন্দ্র’ খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এই কেন্দ্রগুলিতে মাত্র ৫ টাকায় মিলবে পেটভরা গরম গরম মাছ-ভাত।
শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ ও শিল্প পরিকাঠামোতেও এসেছে একঝাঁক মেগা প্রজেক্ট। দুর্গাপুর, আসানসোল এবং উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে এবার মেট্রো পরিষেবা চালুর যুগান্তকারী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে। শুধু তাই নয়, অসমের কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্কের আদলে কলকাতার চিংড়িহাটা থেকে নিউটাউন পর্যন্ত একটি অত্যাধুনিক ‘এলিভেটেড করিডর’ বা উড়ালপুল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বীরভূমের যোগাযোগ ব্যবস্থার ভোলবদল করতে ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর তৈরি হবে একটি নতুন ৪ লেনের ব্রিজ। এছাড়া রাজ্যের বাণিজ্যকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যেতে দাদনপাত্রবাড়ে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর (Deep Sea Port) তৈরির মেগা প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেটে নিচুতলার কর্মীদের কথাও ভোলেননি স্বপন দাশগুপ্ত। অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মীদের (ASHA Workers) মাসিক বেতন একলাফে ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন তিনি। অন্যদিকে গিগ ওয়ার্কার অর্থাৎ জোম্যাটো, সুইগি বা ব্লিনকিটের মতো অনলাইন ডেলিভারি বয়দের জন্য শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিনামূল্যে চার্জিং পয়েন্ট এবং পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত করার মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চা বলয়ে বড় সংস্কার এনে বাণিজ্যিক টি এস্টেটের জমির ঊর্ধ্বসীমা ৩০ একর থেকে কমিয়ে ১৫ একর করার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। সব মিলিয়ে এই বাজেট যেমন আমজনতার পকেটে স্বস্তি দেবে, তেমনই রাজ্যের আধুনিকীকরণে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



