0%

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রভাবেই কি বাঁকিপুরে প্রশান্ত কিশোরের জয়? কী ভাবে বদলে গেল ভোটের সমীকরণ? – সবদিক

পটনা: ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) নেতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলেও পড়েছে বলে দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ছাত্র-যুবাদের ক্ষোভ, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং কর্মসংস্থান ইস্যু বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে ভোটের সমীকরণ বদলে দেয়। তারই ফল হিসেবে জন সুরাজ পার্টির (JSP) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর প্রথমবারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত হন।

বিশ্লেষকদের দাবি, প্রায় তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা বাঁকিপুর কেন্দ্র এবার ছাত্র-যুবাদের অসন্তোষের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং তা ঘিরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলন তরুণ ভোটারদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে।

– বিজ্ঞাপন –

শিক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় বাড়তি প্রভাব

পাটনার অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুরে রয়েছে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং কোচিং সেন্টার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরীক্ষায় অনিয়ম, স্বচ্ছতা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে ছাত্রদের ক্ষোভ সরাসরি ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।

পুলিশি পদক্ষেপেও ক্ষোভ

উপনির্বাচনের আগে বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, প্রায় ৭০০ ছাত্রকে আটক করা হয়েছিল। পরে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারির মুখে রাজ্য সরকার এফআইআর প্রত্যাহারের পথে হাঁটলেও, এই ঘটনার প্রভাব ছাত্রসমাজ ও তাদের পরিবারের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

জাতিভিত্তিক ভোটেও ভাঙন?

বিশ্লেষকদের দাবি, ছাত্র আন্দোলনের জেরে তৈরি হওয়া বিজেপিবিরোধী মনোভাব ঐতিহ্যগত জাতিভিত্তিক ভোটের সমীকরণেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শহুরে পাটনার উচ্চবর্ণের একাংশ, যারা দীর্ঘদিন বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যেও জন সুরাজের প্রতি সমর্থন বাড়ে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

কম ভোটদানেও সুবিধা

এই উপনির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৩৪.৩০ শতাংশ, যা আগের বিধানসভা নির্বাচনের ৪১.৪৫ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশ্লেষকদের মতে, কম ভোটদানের ফলে বিজেপির ঐতিহ্যগত সাংগঠনিক শক্তির প্রভাব কিছুটা কমে যায়। অন্যদিকে, প্রশান্ত কিশোরের লক্ষ্যভিত্তিক প্রচার এবং ছাত্র-যুব ভোটের সংহতি তাঁর পক্ষে যায়।

বিজ্ঞাপন

আরজেডি পিছিয়ে পড়ে

এই নির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াই মূলত সুশাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহির প্রশ্নে আবর্তিত হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, এর ফলে ঐতিহ্যগত বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) কার্যত পিছিয়ে পড়ে এবং প্রতিবাদী ভোটের বড় অংশ জন সুরাজের ঝুলিতে যায়।

যদিও এই বিশ্লেষণগুলির বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি বা স্বাধীন নির্বাচনী কমিশনের মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতেই এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker