Kakoli Ghosh Dastidar Alleges TMC Bangladesh Terror Link Letter

সবদিক নিউজ: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ (NDA) ব্লকে যাওয়ার তোড়জোড়ের মাঝেই এবার বারাসতের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) এমন এক বিস্ফোরক বোমা ফাটালেন, যা ছাব্বিশের বাংলায় কোণঠাসা তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বকে এক লহমায় খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। এবার আর স্রেফ দলবদল বা অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নয়, খোদ নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো মারাত্মক অভিযোগ তুললেন কাকলি। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং দেশের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে (S Jaishankar) একটি চিঠি পাঠিয়ে কাকলি দাবি করেছেন, বাংলার তৎকালীন শাসকদলের সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল বাংলাদেশের প্রথম সারির উগ্রপন্থী ও জঙ্গি সংগঠনগুলির!
চিটফান্ডের টাকায় ওপার বাংলায় সরকার ফেলার ছক?
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টে তৃণমূলের এক অন্ধকার অতীত সামনে আনা হয়েছে। সেই রিপোর্টের সূত্র টেনেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ তথা এক প্রবীণ সাংবাদিকের সঙ্গে ওপার বাংলার উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির সরাসরি নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শুধু তাই নয়, বাংলায় তৃণমূল জমানায় যে লাখো কোটি টাকার সারদা-রোজভ্যালির মতো ‘চিটফান্ড কেলেঙ্কারি’ হয়েছিল, সেই সাধারণ মানুষের লুঠ হওয়া টাকা হাওয়ালা মারফত পাচার করা হয়েছিল বাংলাদেশে। আর সেই বিপুল অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ফেলার ষড়যন্ত্রে!
কাকলি তাঁর চিঠিতে আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে। বিগত সরকারের আমলে বছরের পর বছর ধরে কেন্দ্র বারবার বলা সত্ত্বেও সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাঁটাতার ও বাঙ্কার বানাতে বিএসএফ (BSF)-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেয়নি রাজ্য সরকার। কাকলির দাবি, অনুপ্রবেশ এবং জঙ্গি করিডোর সচল রাখতেই কি তবে জমি আটকে রাখা হয়েছিল? এই সমস্ত গুরুতর বিষয়ের নিরপেক্ষ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত চেয়েছেন বারাসতের সাংসদ।
দেশদ্রোহিতার মুখে পড়তে পারে তৃণমূল?
চিঠিতে বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার লিখেছেন, “সংবাদমাধ্যমে ওঠা এই অভিযোগগুলি এখনও আইনত প্রমাণিত নয় ঠিকই, কিন্তু এগুলি দেশের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এতটাই স্পর্শকাতর ও গুরুতর যে এর সত্যতা যাচাই করা অতি প্রয়োজনীয়। সেই কারণেই রাজ্য ও কেন্দ্র যৌথভাবে এর নিরপেক্ষ তদন্ত করুক।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর এমনিতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত আন্তর্জাতিক মন্তব্য নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে। তার ওপর দলেরই দীর্ঘদিনের সাংসদ কাকলি যেভাবে নথিসহ শুভেন্দু অধিকারী ও জয়শঙ্করকে চিঠি দিলেন, তাতে এই অভিযোগের ১ শতাংশও যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে স্রেফ রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, দেশদ্রোহিতার অপরাধে আইনিভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। কাকলির এই এক চাল পুরো দলকেই খাঁড়ার তলায় দাঁড় করিয়ে দিল।



