কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের ভাঙনের সুর,পদ ছাড়লেন দুই ‘দাপুটে’ নেতা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতা পুরসভাকে (Kolkata Municipal Corporation) ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরমহলে বাড়ছে চাপ। একের পর এক পদত্যাগে ইতিমধ্যেই অস্বস্তিতে শাসকদল। সেই পরিস্থিতিতে ফের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার পদ ছাড়া ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।
পদ ছাড়লেন কোন তৃণমূল (Trinamool Congress)নেতা
এবার বরো ১২-এর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সুশান্ত ঘোষ। যদিও কাউন্সিলর পদে তিনি বহাল রয়েছেন। একই দিনে কলকাতা পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন অরূপ চক্রবর্তী। ফলে পুর প্রশাসনের অন্দরে তৃণমূলের অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে বরো ৯-এর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগ করে কার্যত শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন।
সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তীর পদত্যাগের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। শুধু কলকাতা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার একাধিক পুরসভাতেও একই ছবি ধরা পড়ছে। কোথাও কাউন্সিলররা দল ছাড়ছেন, কোথাও আবার প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নেতারাই।
এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের ভিত শক্ত করতে সোমবার কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে হওয়া ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মদন মিত্র-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে মূলত সংগঠনের ভাঙন রুখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই বিষয়েই জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকের মমতা বলেন, “আমি কাউকে জোর করে আটকে রাখব না। যাঁদের ইচ্ছে তাঁরা যেতে পারেন। কিন্তু যাঁরা দলের সঙ্গে থাকবেন, তাঁদের নিয়েই আমি আবার নতুন করে দল গড়ব।” তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন,”নিজেদের এবং আমার উপর বিশ্বাস রাখুন। আমি নিশ্চিত, আমরা আবার ফিরব।” একই সঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগও তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী।

আরও পড়ুন : ‘আইনজীবী হয়ে কীভাবে এই ধরনের ..’, বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের অভিযোগ
মমতার দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
নেওয়া হচ্ছে। ক্রমাগত পদত্যাগ এবং দলীয় অস্থিরতার আবহে তৃণমূলের এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন নজর থাকবে, এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের ভিত কতটা মজবুত রাখতে পারে শাসকদল।




