কুণালের ‘সারদা ক্ষতে’ নুনের ছিটে! ইডি-কে লেখা ৯১ পাতার চিঠি মমতাকে পাঠানোর হুঁশিয়ারি ঋতব্রতর

সবদিক নিউজ: বৃহস্পতিবার বিধানসভার প্রেস কর্নারে এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠক থেকে সারদা ও চিটফান্ড মামলার সেই পুরনো ক্ষতে নতুন করে নুন ছিটালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষকে নাম না করে কটাক্ষ ছুড়ে তিনি দাবি করেন, “সম্প্রতি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে উন্নীত হওয়া এক ব্যক্তি, যিনি আজ আমাদের বেইমান বলছেন, তিনি দলের সাংসদ থাকাকালীন সারদা কাণ্ডে জেলে গিয়েছিলেন। জেলে বসে দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিবিআই ও ইডি-কে লেখা তাঁর ৯১ পাতার একটি রোমহর্ষক চিঠি আমি পড়েছি। সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে, চিটফান্ডের টাকায় চলেন মুখ্যমন্ত্রী! উদ্বৃত্ত ৩০ কোটি টাকা কোথায় যাবে, তাও বলা আছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, “দিদির এখন অখণ্ড অবসর। বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টরের থেকে সেই চিঠি আপনি চেয়ে নিয়ে একটু পড়ে দেখুন, দল তুলে দেওয়ার সলতে কে পাকিয়েছিল। আপনি না নিলে আগামী ১৫ দিন পর আমি নিজেই ক্যুরিয়ার করে সেই চিঠি আপনার কালীঘাটের বাড়িতে পাঠিয়ে দেব।” একই সঙ্গে এই চিঠির বয়ানের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নতুন করে তদন্তের দাবিও তুলেছেন ঋতব্রত।
“বালিশ ছেড়ে ও এখন আমাকে দেখছে”, ঋতব্রতের অতীত মনে করিয়ে পাল্টা হুঙ্কার কুণালের
ঋতব্রতের এই সারদা-বোমার জবাব দিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি কালীঘাট শিবিরের প্রধান সেনাপতি কুণাল ঘোষ। ঋতব্রতকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “ও একটা রাজনৈতিক বেজন্মা আর বোকা ছেলে। ওই চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। বালিশ ছেড়ে ও এখন স্বপ্নেও আমাকে দেখছে! ইয়ে ডর মুঝে আচ্ছা লাগা!” নিজের জেলের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে কুণাল দাবি করেন, “জেনে রাখো, আসলে আমিই এই রাজ্যের প্রথম হুইসল ব্লোয়ার (Whistleblower)। আমি একা জেল থেকে লড়েছি। তখন তোমরা কোথায় ছিলে? আমার দলেরই কয়েকজন আমার কাঁধে বন্দুক রেখেছিল। সেই আসল লোকটা যদিও এখন মারা গিয়েছে।”
“অমিত মিত্রের ধুতি টানা ছেলে!”, চার আনার ফেরেববাজিতে রাজনীতি হয় না, তোপ ঘাসফুলের
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো বামপন্থী অতীত এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর দিল্লির বঙ্গভবনে হওয়া নিগ্রহের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে কুণাল আরও বলেন, “ঋত তো অমিত মিত্রের ধুতি ধরে টেনেছিল, মমতা বন্দোপাধ্যায়কে হেনস্থা করেছিল। আমাদের পুরনো দাদা অন্য দলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তাও আমি দল ছাড়িনি। আমাকে ঘুরে ঘুরে দল করতে হয় না। চার আনার ফেরেববাজি করে রাজনীতি হয় না, রাজনীতিটা আগে বুঝতে হবে।” ছাব্বিশের বিধানসভা রাজনীতির অলিন্দে দুই শিবিরের এই কাদা ছোড়াছুড়ি এবং সারদার এই পুরনো কঙ্কাল বেরিয়ে আসায় সরগরম গোটা বাংলা।



