কোনো বিধায়কের নাম কি কাটা যাবে? শুরু হয় তৃণমূলের কড়া পর্যালোচনা

বাংলা হান্ট ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রাজ্য রাজনীতিতে এখন থেকেই নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়ছে। সব দলই নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে টিকিটের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ভালো না করলে টিকিট নেই, তৃণমূল কংগ্রেসের স্পষ্ট বার্তা।
ইতিমধ্যেই সমস্ত বিধায়কের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গতবার জিতলে কিছু যায় আসে না। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রত্যেক বিধায়কের কর্মক্ষমতা খতিয়ে দেখছেন। একজন বিধায়ক স্যারের আমলে কতটা মানুষের সঙ্গে ছিলেন, এলাকায় কতটা সক্রিয় ছিলেন, এগুলোই এখন বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে। তৃণমূলের পরামর্শক সংস্থাও এলাকায় স্থল সমীক্ষা চালাচ্ছে। সমস্ত ডেটা একত্রিত করে প্রতিটি বিধায়কের একটি রিপোর্ট চলছে। সরকারের সম্প্রতি প্রকাশিত “উন্নয়নের পাঁচালী” প্রতিবেদনটি এলাকাভিত্তিক প্রচারণায়ও ব্যবহার করা হবে। সেই কর্মসূচিকে বিধায়করা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভালো কাজ করলেই টিকিট, করুণার বার্তা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বলেছেন যে তিনি এমন একজন নেতা চান যিনি সৎ, পরিশ্রমী এবং জনগণের কাজে জড়িত। নির্বাচনের আগে সেই নির্দেশনা মাথায় রেখে এবার কঠোর হচ্ছে দলটি। 24 নভেম্বরের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, “দাদার জন্য টিকিট পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র পারফরম্যান্স।”
219 জন বিধায়কের প্রধান পর্যালোচনা
ডোমকল ও তেহাট্টার দুই বিধায়কের মৃত্যুর কারণে এখনও ভোট হয়নি। মুকুল রায়ের পদ বরখাস্ত হওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেসের এখন 219 জন সরকারী বিধায়ক রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য দল থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া ৫ জন বিধায়কও পর্যালোচনা তালিকায় রয়েছেন।
কে টিকিট হারাতে পারে?
কারা টিকিট হারাতে পারেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে দলীয় সূত্র। সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
- এলাকার একজন বিধায়কের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগ থাকলে তার টিকিট পাওয়া কঠিন।
- যাদের বিরুদ্ধে দলের নাম ব্যবহার করে অযথা গাড়ি-বাড়ি বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে, তাদেরও নজরদারি রাখা হয়েছে।
- দু’জন অভিনেতা বিধায়ককে অসদাচরণের জন্য টিকিট দেওয়া হতে পারে।
- গোপনে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ বা দল থেকে ‘বিবেষণ’-এর ভূমিকায় থাকা নেতাদের টিকিট দেবে না তৃণমূল।

আরও পড়ুন: শর্ত সাপেক্ষে বাংলায় এসআইআরের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে, কমিশন জানিয়েছে
এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছে, বয়সে বড় হলে বাদ পড়বেন, তা নয়। উদাহরণ হিসেবে বজবজ অশোক দেবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স সত্তর পেরিয়ে গেলেও একজন পরিশ্রমী বিধায়ক হওয়ায় তার কাজ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।



