‘ঢপের কীর্তন বন্ধ হোক!’, দিদি-খোকাবাবুর চুরি থেকে নব-তৃণমূল নিয়ে বিস্ফোরক অধীর রঞ্জন চৌধুরী

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল সরকারের পতনের পরর পাল্টে গিয়েছে বাংলার রাজনীতির মানচিত্র। একদিকে বিজেপির সরকার একেরপর এক উচ্ছেদ, দুর্নীতি প্রকাশ্যে আনা থেকে প্রকল্পের ঘোষণা করছে। অন্যদিকে তৃণমূলে ভাঙ্গন অব্যাহত, সম্প্রতি NCPI এর সাথে যোগ দিয়েছেন কাকলি-সুদীপর-সায়নীরা। এরই মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) নিয়ে বিস্ফোরক অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)।
মমতা-অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক অধীর রঞ্জন চৌধুরী
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, প্রথম কথা ব্যাপার হচ্ছে এরা মারছে কম, ছুট করাচ্ছে বেশি। ধরবার হলে ধর, কেসের তো কোনো অভাব নাই। কয়েকদিন আগেই তো ইডির দফতরে সাড়ে ৯ ঘন্টা জেরা করা হয়েছিল। সবাই জানে তার দুর্নীতির কথা, কিন্তু জানে না সিআইডি, ইডি! গ্রেফতার করো। দ্বিতীয় কথা, এই নাটক বন্ধ হোক। কেউ বলছে খোকাবাবুর দল শেষ হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সন্মান করি। তো যারা নানা বাহানাবাজি করে বিজেপির হাত শক্ত করতে চাইছে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি বলছে না কেন? যে আপনি খোকাবাবুকে সরিয়ে দিন, আমাদের নেতৃত্ব দিন। না বিধানসভায় না লোকসভায় কোনো বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার জন্য আমরা চিঠিও করবো না চেষ্টাও করব না দরখাস্তও করব না। একথা কিন্তু কেউই বলছেন না। সবাই বলছে খোকাবাবুর জন্য তাদের মান ইজ্জ্ত গেছে, তাঁর জন্যই সকলে হেরেছে। কিন্তু এটা কেউ বলছেন না যে খোকাবাবুকে সরিয়ে দিন। আমরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে রাজনীতি করতে চাই। এমনকি বিধানসভা বা লোকসভা সেখানে যা করেছি সেখান থেকে ৰেরিয়ে আবার তৃণমূল পার্টিকে তুলতে চাই।

ঢপের কীর্তন বন্ধ হোক! রাজ্যে কি আর সমস্যা নেই?
এরপর তিনি আরও বলেন, এই ঢপের কীর্তনতা প্রতিদিন বন্ধ হোক। কারণ এগুলো করতে গিয়ে বাংলার বাকি সমস্ত সমস্যার দিকে কারোর নজর নেই। পানীয় জলের সংকট শুরু হয়েছেম, সারের সংকট শুরু হয়েছে। মানুষের রোজগারের ক্ষমতা কমে গেছে অথচ বাজারে আগুন লেগেছে। এসব নিয়ে কোনো আলোচনা আছে? খোকাবাবু কোন দিকে গেল? দিদি কোনদিকে গেল? তাঁর দলের এমএলএ, এমপি, এক একটা মহাপুরুষ সব কোনদিকে গেল, কে কাঁদছে কে হাসছে তাই নিয়ে আমরা সব ব্যস্ত। এরাজ্যে কি সমস্যা কিছু নেই আর?
আরও পড়ুনঃ পশ্চিমবঙ্গ দিবসেই তৈরী হবে নতুন ইতিহাস! ৫০০ নৌকায় যোগায় ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করবে বাংলা
মমতার কংগ্রেসে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করতে অধীরবাবু বলেন, ‘দেখা করতে যেতেই পারেন গেছেন। এখন হয়তো মনে হয়েছে কংগ্রেসে যাওয়ার দরকার তাই গেছেন। হুকে পরে বিড়াল গাছে ওঠে, আশা করি জানেন সবাই। এখন সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের কথা মনে পড়েছে তো আমি কি করতে পারি’।
এখানেই থামেননি অধীর, তিনি আরও বলেন, যাদের চাকরি কেড়ে নিয়েছিল ফেরত দেওয়া হয়নি, যাদের মাইনে বন্ধ করে দিয়েছিল তাদের মাইনে ফেরত দেওয়া হয়নি। পিছনে কে? বিজেপি পার্টির এক বা দুইজন নেতা। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করব আপনাদের কি অদ্ভুত লাগছে না? আপনাদের কি প্রশ্ন হচ্ছে না? যে পশ্চিমবঙ্গের সব পৌরসভায় দুর্নীতি পাচ্ছেন, ধরছেন, টাকা উদ্ধার হচ্ছে শুধুমাত্র বহরমপুর পৌরসভা বাদ! এই জাদু কি? এটাও তো জানা দরকার। বহরমপুরের মানুষদের বলতে চাই, এই পৌরসভা ও এখানে যারা বিজেপির নেতা তারা মিলেমিশে এই পৌরসভাকে লুট করে চলেছে।
দিদি রবীন্দ্রসংগীত বানিয়ে চুরি করেছেন, খোকাবাবু ডিজে বাজিয়ে দিয়েছে
রবীন্দ্রসংগীত ও ডিজে বাজানো নিয়ে তার মন্তব্য, তৃণমূলের আমলের চুরি নিয়ে বলতেও ছাড়েননি অধীরবাবু। তিনি বলেন, এই সরকারের সবথেকে বড় চোরের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকিরা তো চোরের সাক্ষী বাটপার। চৌর্যবৃত্তি শিখিয়েছেন মমতা, সেই সরদার আমল থেকে। মনে করে দেখুন, সব ভুলে গেলে বাংলার মানুষ কি করবে! তখন তো খোকাবাবু এই জায়গায় ছিল না। ফারাকটা কি? দিদি অনেক নিপুণ ভাবে চুরি করেছে , আর খোকাবাবু ডিজে বাজিয়ে দিয়েছে। দিদি রবীন্দ্র সংগীত বাজিয়ে চুরি করেছে। খোকাবাবু ডিজে বাজাতে গিয়ে ধরা পরে গেছে। এছাড়াও আরও একাধিক মন্তব্য করেছেন তিনি, যা নিচে দেওয়া ভিডিওতে দেখতে পাবেন।




