0%

ফরিদপুরে হিন্দু মন্দিরে চুরি, কালী প্রতিমা-সহ একাধিক ধর্মীয় সামগ্রী খোয়া গেল

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ফরিদপুর শহরের উত্তর কালীবাড়ি মন্দির থেকে কালী প্রতিমা, স্বর্ণালংকার-সহ একাধিক ধর্মীয় সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সোমবার এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রবিবার ভোর পৌনে ৬টার মধ্যে চুরির ঘটনাটি ঘটে। চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমা, প্রতিমায় থাকা প্রায় ৭-৮ ভরি সোনার অলংকার, পিতলের ছোট বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা প্রতিমা এবং শিবলিঙ্গের সঙ্গে জড়ানো প্রায় ৮-১০ ভরি ওজনের একটি রুপোর সাপ।

মন্দিরের পুরোহিত দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী জানান, কালী প্রতিমাটি একটি শ্বেতপাথরের শিব প্রতিমার উপর স্থাপিত ছিল। চোরেরা শ্বেতপাথরের শিব প্রতিমাটি রেখে কেবল কালী প্রতিমাটি নিয়ে যায়। দুটি প্রতিমার কাঠামোর মোট ওজন প্রায় ৪০ কেজি এবং কালী প্রতিমাটির ওজন অন্তত ২০ কেজি বলে তিনি জানান।

পুরোহিতের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্দিরের পূর্ব দিকে কাঠের দরজা ও কলাপসিবল গেট দিয়ে একটি কক্ষে প্রতিমাগুলি রাখা ছিল। চোরেরা প্রথমে তালা ভেঙে কাঠের দরজা খোলে এবং পরে চারটি তালা দিয়ে সুরক্ষিত লোহার শাটার গেটও ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী জানান, মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি অকেজো ছিল। চুরি যাওয়া সামগ্রীর এখনও কোনও হদিশ মেলেনি। ভোর পৌনে ৬টার দিকে জাতীয় জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-র একটি দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে। চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে বলে জানান ওসি মাহমুদুল হাসান।

সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুরে মন্দির থেকে প্রতিমা চুরির আরও ঘটনা সামনে এসেছে। গত আগস্টে নগরকান্দার একটি শতাব্দীপ্রাচীন মন্দির থেকে রাধাকৃষ্ণ ও গোপাল প্রতিমা চুরি হয়েছিল। পরে পুলিশ ওই দুই প্রতিমা উদ্ধার করে এবং ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে বলে ‘দ্য ডেইলি স্টার’ জানিয়েছিল।

এদিকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সম্প্রতি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও নির্যাতনের মুখে পড়েছে। দলটির এই অভিযোগগুলি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে; এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি।

—আইএএনএস

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker