0%

বঙ্গ তারকার চোটে দলে জায়গা, দলীপ ফাইনালে সেঞ্চুরির পর জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তরুণ তুর্কির

স্কোয়াডে তো বটেই, দলীপ ট্রফির জন্য পূর্বাঞ্চলের রিজার্ভেও ছিলেন না। শাহবাজ আহমেদ ফিট থাকলে ডাকও পেতেন না। কিন্তু বঙ্গ অলরাউন্ডারের চোট যেন বদলে দিল তাঁর কেরিয়ারের গতিপথ। হঠাৎ করে টিমে ঢুকে এবার দলীপ চ্যাম্পিয়ন তকমাও পেয়ে গেলেন।

তিনি মহম্মদ কৌনাইন কুরেশি। ঝাড়খণ্ডের স্পিনার অলরাউন্ডার। দলীপে ভাবনাতেই ছিলেন না তিনি। অবশ্য থাকবেন কীভাবে? প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তখনও যে অভিষেক হয়নি কৌনাইনের! সিনিয়র পর্যায়ে প্রথম লাল বলের ম্যাচটা দলীপ সেমিফাইনালে খেলেছেন তিনি। আর নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে, অর্থাৎ দলীপ ফাইনালে করে ফেললেন দুরন্ত সেঞ্চুরি। পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংস শেষে কৌনাইন অপরাজিত থাকেন ১১৬ রানে। তার আগে প্রথম ইনিংসেও করেছেন ৪০ রান। সঙ্গে নিয়েছেন দু’টো উইকেটও। যে পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি চেন্নাই থেকে ফোনে বলছিলেন, “দলীপ নিয়ে কোনও ভাবনাই ছিল না। কারণ আমি এর আগে কোনও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলিনি। সেখানে দ্বিতীয় ম্যাচেই একটা ট্রফি পেয়ে গেলাম! তাছাড়া মহম্মদ শামি, ইশান কিষান, অভিমন্যু ঈশ্বরণ, বৈভব সূর্যবংশীর মতো তারকাদের সঙ্গে খেলে ভালোই লাগল।”

দক্ষিণের দুই শহর-বেঙ্গালুরু আর চেন্নাইয়ে দলীপ নকআউটের দু’টো ম্যাচ খেলে পূর্বাঞ্চল। আর সেটাই যেন বাড়তি সুবিধা দিয়েছে কৌনাইনকে। কারণ, বোর্ডের অনূর্ধ্ব ২৫ ইমার্জিং ক্যাম্পের জন্য সম্প্রতি দীর্ঘ সময় বেঙ্গালুরুর সিওই-তে ছিলেন। আবার পূর্বাঞ্চলে ডাক পাওয়ার সময় রাজ্য দলের সঙ্গে চেন্নাইয়ে ব্যস্ত ছিলেন রনজি ট্রফির প্রস্তুতিতে। কৌনাইনের কথায়, “দলীপে দু’টো ম্যাচ বেঙ্গালুরু আর চেন্নাইয়ে খেললাম। এরমধ্যে সিওই-তে অনেকদিন ক্যাম্প করেছি। চারটে ডে’জ ম্যাচ খেলেছি। আবার যখন দলে ডাক পাই, তখন চেন্নাইয়ে ছিলাম রাজ্য দলের সঙ্গে। ফলে পরিবেশের সঙ্গে নতুন করে মানিয়ে নিতে হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে।” সবমিলিয়ে দলীপে দু’ম্যাচে ১৬৯ রান এবং পাঁচ উইকেট রয়েছে অফ স্পিনার কৌনাইনের নামের পাশে।

ধানবাদের বাসিন্দা কৌনাইনের ক্রিকেট শুরু ৯ বছর বয়সে। স্থানীয় টাটা ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। ছেলের ক্রিকেটের প্রতি টান দেখে যেখানে কৌনাইনকে ভর্তি করেছিলেন তাঁর মা। গত মরশুমে ঝাড়খণ্ডের অনূর্ধ্ব ২৩ পর্যায়ে ভালো পারফর্ম করেছেন তিনি। এবার দলীপে সাফল্যের পর রাজ্যের সিনিয়র দলে নিয়মিতভাবে খেলাই লক্ষ্য কৌনাইনের। তাঁর কথায়, “আমি ভারতের হয়ে খেলতে চাই। সে জন্য আগে রাজ্য দলে নিয়মিত হতে হবে। ঝাড়খণ্ডের হয়ে অনূর্ধ্ব ২৩ পর্যায়ে খেলেছি। বিজয় হাজারে খেলেছি। রনজি আসছে। জানি না দলে কতটা সুযোগ পাব। তবে মাঠে নামলে দলকে জেতানোই লক্ষ্য থাকবে।”

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker