0%

রাজ্যের কোষাগার ভরাতে ফের চালু হতে পারে সরকারি লটারি! বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের আয় বাড়াতে সরকারি লটারি ফেরানোর ভাবনা সরকারের (Government of West Bengal)। দীর্ঘ ছ’বছর বন্ধ থাকার পর ফের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারি চালু করার ভাবনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশের পরেই এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অর্থ দপ্তরকে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

লটারি নিয়ে কী‌ ভাবনা সরকারের (Government of West Bengal)?

সরকারি সূত্রের দাবি, এবার লটারি চালু হলে স্বচ্ছতার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে সরকার। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, যে টিকিট বিক্রি হয়নি সেই টিকিটে কোনওভাবেই লটারির ফল প্রকাশ করা যাবে না। তাঁর মতে, বর্তমানে বাইরের বিভিন্ন সংস্থা শুধুমাত্র ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অথচ সেই ব্যবসা থেকে রাজ্যের কোষাগারে প্রত্যাশিত আয় আসছে না। তাই সরকার নিজেরাই কেন লটারি পরিচালনা করবে না, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। একসময় রাজ্যের সরকারি লটারির বাজার ছিল যথেষ্ট জনপ্রিয়। প্রতি সপ্তাহে একাধিক ড্র হত এবং উৎসবের সময় বিশেষ বাম্পার লটারির জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা দেখা যেত। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার মোট ৪৮টি সাপ্তাহিক লটারি এবং ছটি বাম্পার সিরিজ চালাত।

বঙ্গলক্ষ্মী সুপার, বঙ্গভূমি সুপার ও বঙ্গলক্ষ্মী নামে বিভিন্ন বিভাগে এই লটারিগুলি পরিচালিত হত। রথযাত্রা কিংবা দীপাবলির মতো উৎসব উপলক্ষে এক কোটি টাকা পুরস্কারের বিশেষ বাম্পার ড্র-ও আয়োজন করা হত। সেই সময় সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই টিকিটের দাম রাখা হয়েছিল অত্যন্ত কম। ২ টাকা ও ৫ টাকার সাপ্তাহিক টিকিটের পাশাপাশি ১০ টাকার বাম্পার টিকিটও বাজারে পাওয়া যেত।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, শুধুমাত্র সাপ্তাহিক লটারি থেকেই বছরে প্রায় ৬৬ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হত। সেখান থেকে প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা নিট রাজস্ব আয় করত রাজ্য সরকার। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের মে মাসে লটারির ধরনে বড় পরিবর্তন আনা হয়। সপ্তাহে একদিনের বদলে প্রতিদিন ড্র চালু করা হয়। তার ফলও দ্রুত মেলে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে এক হাজার কোটিরও বেশি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে আসে। সেই বছর প্রায় ২২৩ কোটি টাকার রাজস্ব আসে রাজ্যের কোষাগারে। পরের অর্থবর্ষে সেই আয় আরও বেড়ে প্রায় ৩০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

Lottery may be reintroduced by Government of West Bengal

আরও পড়ুন : লোকসানের চাপ কাটিয়ে শক্তি বাড়াচ্ছে BSNL, মন্ত্রীর ঘোষণায় বাড়ছে জল্পনা

কিন্তু এত বিপুল আয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ২০২০ সালের মার্চ মাসে আচমকাই বন্ধ করে দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারি। কেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও কারণ সামনে আসেনি। এখন নতুন সরকারের আমলে ফের সেই পুরনো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে খবর। অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রাজস্ব বৃদ্ধির অন্যতম বড় হাতিয়ার হিসেবেই সরকারি লটারিকে দেখছে প্রশাসনের একাংশ।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker