‘শিরদাঁড়া..,’ তৃণমূলে বিদ্রোহের মাঝেই এবার বিস্ফোরণ ঘটালেন মহুয়া

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে চলে আসছে। কে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন এবং কারা অন্য রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে ঝুঁকছেন, তা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।
কী বললেন মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) ?
সাম্প্রতিক বৈঠকের পর দলের একাংশের অবস্থান নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এনডিএ-কে সমর্থন জানিয়ে ২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জমা পড়ার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। সূত্রের দাবি, ২৮ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র ৮ জন এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে রয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন মহুয়া মৈত্রও। চিঠি জমা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে এখন অন্য রাজনৈতিক শিবিরের প্রতি আগ্রহ দেখানো সাংসদদের আচরণকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মহুয়া। তাঁর বক্তব্য, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে পরে অবস্থান বদল করা রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী। এই প্রসঙ্গেই তিনি লিখেছেন, “এই সাংসদরা তো তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন, এনডিএ-র টিকিটে নয়। প্রত্যেকে লোভী, প্রতারক। আপনারা দয়া করে বিজেপিতে যোগ দিন। পদত্যাগ করে বিজেপির টিকিটে জিতে দেখান। দেখান আপনারা কত বড় হিরো।”
শুধু সাধারণ মন্তব্যেই থেমে থাকেননি কৃষ্ণনগরের সাংসদ। বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানের নাম উল্লেখ করে আলাদা পোস্টও করেন তিনি। দিল্লি সফর এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের জল্পনার মাঝেই ইউসুফকে উদ্দেশ করে মহুয়া বলেন, “ইউসুফ পাঠান আপনি কেন দিল্লি যাচ্ছেন? অমিত শাহ আপনাকে ডেকেছে বলে? আপনি তো ভারতের জন্য খেলেছেন, একটু সাহস দেখান। আপনি বিপুল ভোটের ফারাকে জিতেছেন। একটু শিরদাঁড়া সোজা রাখুন।”

আরও পড়ুন : মমতার বাড়ি লাগোয়া তৃণমূলের কার্যালয়ে CID! বিরাট টিম ঘিরে ফেলল এলাকা
অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের আর এক সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর বক্তব্য, যদি দলের বিরুদ্ধে এতদিন ধরে ক্ষোভ থেকেই থাকে, তাহলে নির্বাচনের আগে বা প্রচারের সময় তা প্রকাশ্যে বলা হয়নি কেন? পাশাপাশি ভোটের সময় দল এবং দলনেত্রীর প্রশংসা করার বিষয়টিও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। দলের অন্দরে এই মতপার্থক্য আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে তা স্পষ্ট।




