0%

হুমায়ুন কবীরের ‘ওয়াই-প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহার, আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা

সবদিক নিউজ: আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সোমবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে মেল মারফত এই সিদ্ধান্তের কথা হুমায়ুনকে জানানো হয়। নির্দেশিকা পাওয়ার পরপরই তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা একে একে চলে যান। আকস্মিক এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ নেতা। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পুনর্বহালের দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার তিনি পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন। এর আগে নতুন দল গঠনের পর নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তিনি আদালতে আবেদন করেছিলেন এবং আদালতের নির্দেশেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে ‘ওয়াই-প্লাস’ (Y-Plus) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিয়েছিল। যেখানে একজন ইন্সপেক্টর, একজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১১ জন কনস্টেবল সহ মোট ১৩ জন কেন্দ্রীয় জওয়ানের স্কোয়াড তাঁর সুরক্ষায় মোতায়েন ছিল। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের সময় এই নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছিল, যা এবার সম্পূর্ণ তুলে নিল অমিত শাহের মন্ত্রক।

কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল উভয় পক্ষকেই নিশানা করেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অধীর চৌধুরী বা নওশাদ সিদ্দিকীর মতো বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা বজায় রাখা হলেও, কেন কেবল তাঁর নিরাপত্তাই প্রত্যাহার করা হলো? তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে গেলেও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে নিরাপত্তারক্ষী পাঠানো হবে বলে ইতিমধ্যেই আশ্বস্ত করা হয়েছে। অতীতে হুমায়ুনের এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কম বিতর্ক হয়নি। সে সময় তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা তাঁকে বিজেপির ‘দালাল’ বা ‘বি-টিম’ বলে বারবার আক্রমণ করেছিলেন।

এদিন সেই পুরনো আক্রমণের পালটা জবাব দিতে সমাজমাধ্যমকে হাতিয়ার করেছেন হুমায়ুন কবীর। নিজের ফেসবুক পেজে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, “কারা বিজেপির আসল ‘বি’ টিম আর কারা আসল দালাল, তা আজ হাতেনাতে প্রমাণিত হয়ে গেল।” তিনি আরও লেখেন, “যাহাই তৃণমূল, তাহাই বিজেপি। আবারও একবার সেটা প্রমাণ করলেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।” মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে ভোটে জিতে আজ কেন তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের নামে মানুষের রায়ের অবমাননা করছেন? এই চরম প্রতারণার মদতদাতা আসলে কে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সবশেষে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি কোনওদিনও তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আলাদা দল গড়তে চাননি। দলই তাঁকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সাসপেন্ড করেছিল। আর সেই কারণেই বাধ্য হয়ে তিনি মুর্শিদাবাদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনাটি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ক্ষমতার অলিন্দে পর্দার আড়ালে কারা কার সাথে আঁতাত করে চলেছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker