‘এবার আর হিসেব ভুল নয়…’, ২০২৬ ভোটে কত ব্যবধানে জিতবে তৃণমূল? জানালেন রচনা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের মুখে সিঙ্গুরকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশল সাজাতে শুরু করেছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার আন্দোলনের মাটি বীরভূম থেকে ১৬৯৪টি পরিষেবার শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতা দীপক অধিকারী। সেই মঞ্চ থেকেই এবার ভোটের লড়াইয়ের বার্তা দিলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)।
কী বললেন রচনা (Rachana Banerjee)?
সভামঞ্চ থেকেই একপ্রকার ভোটের টার্গেট বেঁধে দেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। বক্তব্য শুরুতে তিনি বলেন, “সবাই ভালো আছেন তো?” এরপরই লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে রচনা বলেন, “এখন থেকে লড়াই শুরু। বাংলার দাপট মানুষ এখনও দেখেনি। একদিকে ১০ কোটি লোক, অন্যদিকে বিজেপি আর এজেন্সি। যাঁরা বলছেন বাংলা বলে কোনও ভাষা নেই, আমরা সবাই মিলে লড়ব।”
এদিন নিজের সাংসদ হিসেবে ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সাংসদ। আপনাদের সঙ্গে আমার বারবার দেখা হবে। আমরা আজ দিদির কথা শুনতে এসেছি।” এরপর তিনি বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, “২০১১ সালে আসন ছিল ১৮৫, ২০১৬ সালে ২১৬, ২০২১ সালে ২১৫। আর ২০২৬ সালে কী হবে, সেটা আপনারা বুঝতেই পারছেন। রেকর্ড হবে।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই এই সিঙ্গুরে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে সেই সভা থেকে শিল্প নিয়ে কোনও স্পষ্ট আশ্বাস দিতে দেখা যায়নি তাঁকে। তার ঠিক পরদিনই সিঙ্গুর ইস্যুতে জোড়া শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৮ একর জমির উপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে সিঙ্গুরে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে মোট ২৮টি প্লটের মধ্যে ২৫টি ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানান তিনি। মমতা স্পষ্ট করে বলেন, “কৃষিও চলবে, শিল্পও চলবে। কৃষিজমি দখল করে নয়।”

আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর এবার বাংলায় ৩ নতুন রেললাইন, চূড়ান্ত অনুমোদন রেল মন্ত্রকের
এছাড়াও তিনি জানান, আরও একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সেখানে ৭৭ একর জমিতে একটি প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। সিঙ্গুরকে সামনে রেখে এই ঘোষণাগুলির মাধ্যমে ভোটের আগে শিল্প ও কর্মসংস্থানের বার্তা দিতে চাইল শাসকদল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



