২৭৪২ কোটি টাকার কয়লা পাচার! লালার আগাম জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক দাবি ED-র

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কয়লা পাচার মামলায় ফের নতুন করে চাপে পড়লেন অনুপ মাজি ওরফে লালা। দিল্লি হাই কোর্টের দেওয়া আগাম জামিনকে এবার সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে ইডি (Enforcement Directorate)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বেআইনি কয়লা পাচার চক্রের অন্যতম মূল মাথা অনুপ মাজি। অন্যদিকে লালার দাবি, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে মামলাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কয়লা পাচার মামলায় বড় নড়াচড়া ইডির (Enforcement Directorate)
মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। সেখানে ইডির (Enforcement Directorate) আবেদনের ভিত্তিতে অনুপ মাজির কাছে জবাব তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি হাই কোর্ট যে আগাম জামিন দিয়েছিল, সেটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
শুনানির সময় ইডির (Enforcement Directorate) তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আদালতে দাবি করেন, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর খনি এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে কয়লা তুলে পাচার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই চক্রের “মূল চক্রী” অনুপ মাজি। তদন্তে অন্তত ২,৭৪২ কোটি টাকার কয়লা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে বলেও আদালতে জানানো হয়।
ইডির (Enforcement Directorate) আরও অভিযোগ, তদন্তের শুরুর দিকে অনুপ মাজি সহযোগিতা করেননি। দীর্ঘ সময় তিনি তদন্তকারীদের নাগালের বাইরেও ছিলেন বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার। তাই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও আদালতে জানানো হয়। অন্যদিকে অনুপ মাজির আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে আদালতে বলেন, তাঁর মক্কেল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। ইতিমধ্যেই ২৩ বার ইডির সামনে হাজিরাও দিয়েছেন তিনি। ফলে নতুন করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনও প্রয়োজন নেই বলেই দাবি তাঁর।
শুনানির সময় লালার আইনজীবী আরও জানান, মূল সিবিআই মামলাতেও অনুপ মাজি আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। যদিও সুপ্রিম কোর্ট মৌখিকভাবে জানায়, প্রয়োজন হলে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে এতদিন ধরে তদন্ত ঝুলে থাকা নিয়েও ইডির ভূমিকায় প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। পরে অনুপ মাজির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব তলব করে নোটিস জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ইসিএলের খনি এলাকা থেকে বেআইনি কয়লা উত্তোলন এবং পাচারের অভিযোগে অনুপ মাজি-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিবিআই এফআইআর দায়ের করে। সেই মামলার ভিত্তিতেই পরে অর্থপাচারের তদন্ত শুরু করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বেআইনি কয়লা ব্যবসার টাকা লুকোতে একাধিক শেল কোম্পানি তৈরি করা হয়েছিল। ভুয়ো ডিরেক্টর ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন চালানো হত বলেও অভিযোগ। এমনকি অনুপ মাজির হিসাবরক্ষকের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।

আরও পড়ুনঃ মনরেগার বদলে ‘জি রাম জি’, বাংলায় ১২৫ দিনের কাজ চালু করতে উদ্যোগী সরকার
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই তদন্তের সূত্র ধরেই চলতি বছরে কলকাতায় আই-প্যাকের অফিসেও তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা (Enforcement Directorate)। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।



