বেরোলেই মারবে জনতা! আজ কালীঘাটে মমতার ডাকা বৈঠক এড়াতে চাইছেন একাধিক তৃণমূল বিধায়ক

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে পরপর দু’দিনের বিতর্ক এবং বিক্ষোভের ঘটনার পর তৃণমূলের (Trinamool Congress) অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে অনেক বিধায়কের মধ্যেই অনীহা দেখা দিয়েছে। দলের একাংশের আশঙ্কা, বর্তমানে বাইরে বেরোলেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে।
তৃণমূল (Trinamool Congress) বিধায়কদের মধ্যে বাড়ছে সংশয়
রবিবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটে জয়ী তৃণমূল (Trinamool Congress) বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই বৈঠকে কতজন উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, অনেক বিধায়ক বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও দলের একাংশের মতে, ৮০ জনের মধ্যে ২৫ জন বিধায়ক উপস্থিত থাকলেও বৈঠক করা সম্ভব।
প্রসঙ্গত, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই বিধায়কদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এলাকার বাইরে বা রাস্তায় বেরোলেই সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে। সেই কারণেই অনেকে কালীঘাটে যেতে চাইছেন না।
এর মধ্যেই রবিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। পরপর দু’দিন দুই তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতাকে ঘিরে উত্তেজনার ঘটনা দলের অন্দরে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার বেশ কয়েকজন বিধায়ক বৈঠকে যোগ নাও দিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
দলের এক বিধায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোনারপুরে যা হয়েছে তা সমর্থন করা যায় না। তবে তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও কিছু দায় রয়েছে। আরেক বিধায়কের দাবি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যা হয়েছে তা দুর্ভাগ্যজনক হলেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বক্তব্যের ফলেই এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
কয়েকজন বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখনকার পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কালীঘাট পৌঁছনোর আগেই জনরোষের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাঁরা বৈঠকে যাবেন না। আবার একজন বিধায়কের বক্তব্য, তিনি কখনও কোনও গোষ্ঠীর রাজনীতি করেননি, তাই এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার প্রয়োজনও মনে করছেন না।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় অনেক বিধায়ক ব্যক্তিগতভাবে সহানুভূতিশীল হলেও প্রকাশ্যে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন না। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনমতের বিরুদ্ধেও যেতে চাইছেন না তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ টলিউডে কারা কালো টাকা সাদা করছেন? নাম না করেই বড় ইঙ্গিত বিজেপি বিধায়ক হিরণের
বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূলের (Trinamool Congress) বিধায়ক সংখ্যা ৮০। বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে অন্তত ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দলের অন্দরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে কতজন বিধায়ক সক্রিয়ভাবে দলের সঙ্গে থাকবেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি সই জালিয়াতি মামলায় একাধিক বিধায়কের কাছে সিআইডির নোটিস পৌঁছনোয় চাপ আরও বেড়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।




