তল্লাশির সময় ছিল না কোনও সাক্ষী? সিআইডির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে হাই কোর্টে মামলা করল তৃণমূল

সই জালকাণ্ডের তদন্ত ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইও শুরু হল। তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের হয়েছে। একইসঙ্গে এই মামলায় নিজের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ রুখতে ফের আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
সই জাল কান্ডে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা
মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের তৃণমূলের কেন্দ্রীয় দফতরে হাজির হন সিআইডির একটি দল। তদন্তে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে ওই অফিসে কিছু নথি ও তথ্য যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁরা জানান। কার্যালয়ের বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। মহিলা পুলিশকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে থাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন কোষাধ্যক্ষ শুভাশিষ চক্রবর্তী। সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিরোধ তৈরি হয়। শুভাশিষের বক্তব্য ছিল, তিনি নিজে থেকে তদন্তকারী সংস্থাকে তল্লাশির অনুমতি দিতে পারেন না। তবে শেষ পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা টানাপোড়েনের পর তদন্তকারীরা অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, তল্লাশির সময় প্রয়োজনীয় আইনি বিধি পুরোপুরি মানা হয়নি। তাঁর দাবি, কোনও নিরপেক্ষ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়াই কার্যালয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। এমনকি সেই সুযোগে দলীয় নথিপত্র স্ক্যান করে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে আবেদনে। জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টির শুনানির আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী কিশোর দত্ত।

আরও পড়ুন : সকলে পাননি বকেয়া DA, অবিলম্বে মহার্ঘ ভাতা মেটানোর দাবিতে এবার বড় পদক্ষেপ
যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিআইডির দাবি, তারা বৈধ সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়েই তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়েছিল। তল্লাশি শেষ হওয়ার পরও তদন্তকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অফিস থেকে কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। সই জালকাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই তার রাজনৈতিক অভিঘাত বাড়ছে। এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।




