ছাগল বিক্রেতা থেকে ৬৪ বিঘার প্রাসাদ-ভেড়ির মালিক! গোসাবার তৃণমূল নেতা ‘ঝড়ো’-র কেচ্ছা ফাঁস

সবদিক নিউজ: গত শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, রাজ্যে খুব শীঘ্রই ‘লাভ জিহাদ’ রুখতে অত্যন্ত কড়া আইন আনা হচ্ছে। আর এই রাজনৈতিক মহাবর্তার মাঝেই সুন্দরবনের গোসাবায় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে জোর করে হিন্দু মহিলাদের বিয়ে করা ও তাঁদের সম্পত্তি লুটে নেওয়ার মতো মারাত্মক ও সংবেদনশীল অভিযোগ সামনে এল। অভিযুক্ত নেতার নাম সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝড়ো, যিনি গোসাবা ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ভয়ের রাজত্ব কায়েম করে দিনের পর দিন এই ধরণের সামাজিক অপরাধ ও অত্যাচার চালিয়েছেন তিনি।
শুধু নারীদের ওপর অত্যাচারই নয়, তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন এই ঝড়োর ভাগ্য যেভাবে বদলেছে, তা দেখে চোখ চড়কগাছ তদন্তকারীদের। প্রথম জীবনে যিনি ছাগল, মুরগি ও গৃহপালিত পশু বিক্রি করে কোনও রকমে দিন গুজরান করতেন, আজ তিনি বিঘার পর বিঘা জমির মালিক। গোসাবার পাঠানখালিতে তাঁর রয়েছে প্রায় ৬৪ বিঘা জমি, যার মধ্যে ২৪ বিঘার ওপর গড়ে উঠেছে এক বিশাল রাজকীয় বাগানবাড়ি এবং ৪০ বিঘার ওপর রয়েছে বিশাল মাছের ভেড়ি। এমনকি তাঁর এলাকার পার্টি অফিসটিও কোনও রাজপ্রাসাদের থেকে কম নয়! শুধু গোসাবা নয়, কলকাতা এবং শহরতলির একাধিক জায়গায় এই নেতার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়ির সন্ধান মিলেছে।
তোলাবাজি থেকে ১০০ দিনের কাজের কাটমানি, লম্বা চুরির তালিকা
স্থানীয় সূত্রের খবর, ছাগল বিক্রেতা থেকে গোসাবার ‘বেতাজ বাদশা’ হয়ে ওঠার পেছনে ছিল লাগামহীন দুর্নীতি। ঝড়োর বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজের টাকার সিংহভাগ কাটমানি খাওয়া, জোর করে গরিব মানুষের জমি ও ভেড়ি দখল করা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর চড়া হারে তোলাবাজি করার ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। এতদিন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং তাঁর বাহুবাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূল ক্ষমতা হারাতেই একে একে সব কেচ্ছা সামনে আসছে।
ভোটের ফল বেরোতেই পলাতক ‘ঝড়ো’, খোঁজে তল্লাশি পুলিশের
এলাকাবাসীর ওপর অত্যাচার এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলা চালানোর জন্য ঝড়োর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রুজু রয়েছে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। পুলিশের খাতায় তাঁর বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাও দায়ের হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ তাঁর এই বিপুল বেআইনি সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাঁর খোঁজে সুন্দরবন ও কলকাতার বিভিন্ন ডেরায় তল্লাশি চালাচ্ছে।



