সন্তানসংখ্যা নির্ধারণের উদ্দেশে বাংলায় UCC? সবটা পরিষ্কার করলেন শমীক ভট্টাচার্য

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলাতেও চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তথা ইউসিসি (Uniform Civil Code)। বিধানসভার চলতি অধিবেশনেই এই বিষয়ক বিল পেশ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে এই খবর সামনে আসার পর এই নিয়ে বেশ কিছু বিভ্রান্তিও ছড়ায়। এবার সেগুলি দূর করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
‘কোনও লুকোচুরি, মুখোশের আড়াল নেই’: শমীক | (Samik Bhattacharya)
শনিবার বিকেলে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন বিজেপি নেতা। সেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে চলতে থাকা সকল বিভ্রান্তি দূর করেন তিনি। একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, সন্তানসংখ্যা নির্ধারণ করা এর উদ্দেশ্য কিংবা বিধানের অংশ নয়।
আরও পড়ুনঃ ‘কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না?’ ফিরহাদকে নিয়ে প্রশ্ন কুণালের, বেঁধে দিলেন ডেডলাইন
শমীক লেখেন, “ভারতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিজেপির অবস্থান বহুদিনের এবং সুস্পষ্ট । এটি দলের নির্বাচনী ইস্তেহার ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশ— এখানে কোনও লুকোচুরি নেই, কোনও মুখোশের আড়ালও নেই।“
তিনি জানান, বিজেপি মনে করে বাংলাতেও ইউনিফর্ম সিভিল কোড দরকার। কারণ আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের জন্য সমান কর্তব্য ও সমান অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ সহ নাগরিক বিষয়গুলিতে ধর্মভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন নাগরিক কাঠামো দেশের ঐক্য, ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক সমতার আদর্শকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এর পাশাপাশি দু’টি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্যের পোস্টঃ ক্লিক করুন
শমীক লিখেছেন, “সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৬ (২৫) এবং অনুচ্ছেদ ৩৪২ অনুযায়ী স্বীকৃত তফসিলি জনজাতির সদস্যরা এই আইনের আওতার বাইরে থাকবেন। তাঁদের সংবিধান স্বীকৃত প্রথা, রীতি ও বিশেষ অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। এই আইন কার্যকর হলে সকল নাগরিকের জন্য একই ধরনের নাগরিক বিধান প্রযোজ্য হবে ও যেখানে ব্যক্তিগত আইনে বহুবিবাহের সুযোগ রয়েছে, সেই ধরনের বৈষম্য দূর করার দিকেও এটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সন্তানসংখ্যা নির্ধারণ করা UCC-এর উদ্দেশ্য বা বিধানের অংশ নয়।“

বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন, সকল নাগরিকের জন্য সমান নাগরিক আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও সংবিধানপ্রদত্ত তফসিলি জনজাতির বিশেষ রক্ষাকবচ— অভিন্ন দেওয়ানি বিধির ক্ষেত্রে এই দুই বিষয়কেই একসঙ্গে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাই এই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনও কারণ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে অসম, গুজরাট, উত্তরাখণ্ডের মধ্যে রাজ্যে ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে। বাংলায় ক্ষমতায় এলে এখানেও চালু করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এবার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে এগোচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।




