দলীয় প্রতীক জালিয়াতির অভিযোগ, শুভেন্দুর পুলিশের দ্বারস্থ মমতা শিবির!

বাংলা হান্ট ডেস্ক : একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে তৃণমূলের (Trinamool Congress) অন্দরের দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে এল। দলীয় প্রতীক ও নাম অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে নিউ টাউন থানার দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট শিবির। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
দলীয় (Trinamool Congress) প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে থানার দারস্থ কালীঘাট শিবির
শনিবার কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে নেত্রী দোলা সেন নিউ টাউন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক নকল করা হচ্ছে এবং একইসঙ্গে দলের নামও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি জালিয়াতির সামিল বলে দাবি করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭৩ নম্বর ধারায় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা বিধায়ক-নেতারাই। এদিনই তপসিয়ার একটি ব্যাঙ্কোয়েটে বিদ্রোহী শিবিরের উদ্যোগে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চারজন বিদ্রোহী বিধায়ক এবং প্রায় ৫০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের বাইরে থাকা ব্যানারে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ব্যবহার করা হয়।
শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী বিধায়ক অরূপ রায় একুশে জুলাইয়ের সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদনও করেছেন। যে লেটারহেডে সেই আবেদন পাঠানো হয়েছে, সেখানে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নামের পাশাপাশি রাজডাঙার একটি ঠিকানাও উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরও একই দিনে একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে কড়া সুরে আক্রমণ শানিয়ে মহুয়া বলেন, “বিদ্রোহী বিধায়করা রাজনৈতিক লড়াইয়ের বদলে আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতা নিয়েই বেশি ব্যস্ত। তৃণমূলের প্রতীক তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। মানুষ কোনও ব্যক্তিকে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সমর্থন করে ভোট দিয়েছেন। তাই তিনি যে প্রতীকেই লড়ুন না কেন, মানুষ সেই প্রতীককেই ভোট দেবেন। আর আজ কাউন্সিলরদের নিয়ে যে বৈঠক হচ্ছে, মেয়রের পদত্যাগ এবং নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী কোনও কাউন্সিলরই এখন আর পদে নেই।”

আরও পড়ুন : বিক্ষোভে ভাঙচুর? এবার সুদ-সহ টাকা আদায় করবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত
একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন যত বাড়ছে, ততই তৃণমূলের দুই শিবিরের বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসছে। প্রতীক ও দলীয় নাম ব্যবহারের এই অভিযোগ আগামী দিনে নতুন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।




