লুকিয়েও শেষ রক্ষা হল না! আবাসন থেকে টেনে বের করে তৃণমূল নেতাকে গণধোলাই, তারপর যা ঘটল…

সবদিক নিউজ: তোলাবাজি, হুমকি এবং বেকারি কারখানায় তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কল্যাণী ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা কাঁচরাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পঙ্কজ সিং। তবে গ্রেফতারের আগে প্রকাশ্য রাস্তায় স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে বেধড়ক গণপিটুনির শিকার হতে হয় এই প্রভাবশালী শাসকদল নেতাকে। গত বুধবার সন্ধ্যায় কল্যাণী লেক পার্ক সংলগ্ন একটি বহুতল আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কল্যাণী থানার পুলিশ। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে কল্যাণী মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।
বেকারি কারখানায় তাণ্ডব ও তোলাবাজির অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কল্যাণী ব্লকের কাঁচরাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শহিদপল্লি এলাকায় একটি বেকারি কারখানা চলছিল। অভিযোগ, সেই কারখানার মালিকের কাছ থেকে পঙ্কজ সিং বেআইনিভাবে লক্ষাধিক টাকা তোলা দাবি করেন এবং জোরপূর্বক অর্থ আদায় করেন। শুধু তাই নয়, টাকা দিতে অস্বীকার করায় কারখানাটিতে ভাঙচুর চালানো এবং মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া এলাকার একাধিক জায়গা থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে টাকা তোলার দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
তিন সপ্তাহ পলাতক থাকার পর গণধোলাই
প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পঙ্কজ সিংয়ের বিরুদ্ধে থানায় নির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই বেগতিক বুঝে এলাকা থেকে চম্পট দেন কাঁচরাপাড়ার এই প্রধান। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালালেও তিনি ক্রমাগত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে গা-ঢাকা দিয়ে থাকছিলেন। অবশেষে গত বুধবার শহিদপল্লি এলাকার বাসিন্দারা গোপন সূত্রে খবর পান যে, পঙ্কজ সিং কল্যাণী লেক পার্ক এলাকার একটি বহুতল আবাসনে আত্মগোপন করে আছেন। খবর পাওয়ামাত্রই ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে চড়াও হয় এবং পালানোর চেষ্টা করতেই তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপরই উত্তেজিত জনতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর শুরু করে। মারধরের সেই হাড়হিম করা ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ভাইরাল।
হাসপাতাল হয়ে সোজা শ্রীঘর, আজ আদালতে পেশ
তৃণমূল নেতাকে গণপিটুনির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে র*ক্তাক্ত অবস্থায় পঙ্কজকে উদ্ধার করে প্রথমে কল্যাণীর কলেজ অফ মেডিসিন এন্ড জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বুধবার রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও ভাঙচুরের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে কল্যাণী মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে পুলিশ। এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে কল্যাণী রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।



