পালাবদলের পরই এলাকাছাড়া! ঘরে ফিরতেই তৃণমূল নেতার কোমরে দড়ি, কান ধরে ওঠবস করালেন স্থানীয়রা

AK Bangla Desk: দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিজেপি কর্মী ও সাধারণ এলাকার বাসিন্দাদের ওপর অবর্ণনীয় তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ছাব্বিশের রাজনৈতিক পালাবদলের পরই ভয়ে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন পানিহাটির প্রভাবশালী তৃণমূল কর্মী দীপ সাহা। রবিবার আচমকাই তাঁকে এলাকায় দেখতে পেয়ে ঘেরাও করেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরই প্রকাশ্যে ওই যুবকের কোমরে দড়ি বেঁধে পুরো এলাকায় ঘোরানো হয় এবং কান ধরে ওঠবস করিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। নজিরবিহীন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ও শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত দীপ সাহা পানিহাটি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থ চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল তৃতীয়বার ক্ষমতা দখল করার পর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল দীপ ও তার দলবল। একাধিক দোকানপাট ভাঙচুর, তোলাবাজি, মহিলাদের সঙ্গে অসভ্যতা ও শ্লীলতাহানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র বা বন্দুক উঁচিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও ছিল। পরিস্থিতি প্রতিকূল বুঝে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাছাড়া ছিলেন ওই যুবক।
রবিবার আচমকা তাঁকে এলাকায় দেখতে পেয়েই নাগালে চেপে ধরে উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে সেখানে জড়ো হন একাধিক বিজেপি কর্মী ও অত্যাচারিত স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানেই তাঁকে কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানোর পর কান ধরে ওঠবস করিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে খড়দহ থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। খড়দহ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ঝুনু রায় জানান, “২০২১ সালে আমরা বিজেপি সমর্থক হওয়ার অপরাধে আমার বাড়িতে নির্মম হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। দীপ সাহা ও তার সঙ্গীরাই এই ঘটনার পেছনে মূল অভিযুক্ত ছিল। বছরের পর বছর এলাকায় যে ভীতি ও তাণ্ডবের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছিল, আজ তার উত্তর পেয়েছে। আমরা ওর কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”



