ঘন্টার পর ঘন্টা ট্র্যাফিকের দিন শেষ! বাংলা জুড়ে ৫০০ নতুন ফ্লাইওভার তৈরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শিলিগুড়ির রাস্তায় নিত্যদিনের যানজটের ভোগান্তি কমাতে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। বহু প্রতীক্ষিত বর্ধমান রোড উড়ালপুল সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। এদিন অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে আরও শত শত উড়ালপুল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
৫০০টিরও বেশি নতুন ফ্লাইওভার তৈরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
শিলিগুড়ির এই করিডরে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের মুখে পড়তে হয় হাজার হাজার মানুষকে। প্রশাসনের আশা, নতুন উড়ালপুল চালু হওয়ার ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। উল্লেখ্য, অফিসযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচলও আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাভাবিক হবে। প্রায় ১.১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালপুলটি পূর্ত দফতর এবং ভারতীয় রেলের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে। এর মাধ্যমে হিলকার্ট রোড, ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়ের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের নতুন পথ তৈরি হল।
প্রশাসনের মতে, শুধু শহরের অভ্যন্তরীণ যান চলাচল নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও আন্তঃরাজ্য পরিবহণেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এদিন ভবিষ্যৎ পরিকাঠামো উন্নয়নের রূপরেখাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে রেলের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও ৫০০টি নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে যৌথ প্রকল্পে ব্যয়ের একটি বড় অংশ রাজ্য সরকারকে বহন করতে হলেও এখন কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক সম্পূর্ণ অর্থায়নের ভিত্তিতে একাধিক প্রকল্পে এগিয়ে এসেছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর “বিকাশ ভি হোগা, বিরাসত ভি হোগা” মন্ত্রের উল্লেখ করে উন্নয়ন ও ঐতিহ্যকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।

আরও পড়ুন : অগাস্টে ব্যাঙ্কে কবে কবে তালা? SBI, HDFC-সহ একাধিক ব্যাঙ্কের ছুটির তালিকা দেখে নিন
বিধায়ক তথা পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের মতে, এই উড়ালপুল শিলিগুড়ির পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। দীর্ঘদিনের যানজট কমানোর পাশাপাশি শহরের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নেও এই প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা নেবে।উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ হিসেবে শিলিগুড়ির কৌশলগত গুরুত্বও এর ফলে আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পর অবশেষে চালু হওয়া এই উড়ালপুলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। প্রতিদিনের যানজট, সময়ের অপচয় এবং পরিবহণের চাপ কমানোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করে তুলতে এই প্রকল্প কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।




