মুখ্যমন্ত্রীর মেগা ঘোষণা! পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, এক শিক্ষাবর্ষেই ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একদিকে যেমন বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে পার্শ্বশিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি, সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
নবান্নে আয়োজিত স্কুল কম্পোজিট গ্র্যান্ট প্রদান অনুষ্ঠানে এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত ৮০ হাজার ৩৭৫টি বিদ্যালয়ের হাতে ২৯৬ কোটিরও বেশি টাকার কম্পোজিট গ্র্যান্ট তুলে দেওয়া হয়। সরকারের দাবি, এই অর্থ বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হবে।
অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”এই শিক্ষাবর্ষেই রাজ্য সরকার প্রায় ৫০ হাজার নিয়োগ করতে পারবে।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও পূরণ না হওয়া প্রায় ১২ হাজার শূন্যপদের নিয়োগ সম্পন্ন করার পাশাপাশি আরও ৩৮ হাজার নতুন পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্য স্থির করেছে রাজ্য সরকার।
পার্শ্বশিক্ষকদের জন্যও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাজ্যের ৪২ হাজার ১৯২ জন পার্শ্বশিক্ষকের বেতন ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানো হবে।” পাশাপাশি প্যারা টিচারদের নিয়েও সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। নিয়োগ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে অতীতের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্কুল সার্ভিস কমিশনে সব ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষক, অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও রকম রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আর থাকবে না।” তাঁর দাবি, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে শিক্ষক এবং অধ্যাপক নিয়োগ করা হবে।
সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে প্রশ্ন উঠছে, সে বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে যদি বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার সমপর্যায়ে না করা যায় তাহলেই সকলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকবে, সরকারি স্কুলগুলোও পিছিয়ে পড়বে।” এই লক্ষ্য পূরণে রাজ্যে ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : ২-৩ হাজার নয়, একেবারে ৩০ হাজার টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে, মহিলাদের জন্য বিরাট ঘোষণা
একইসঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনায় অভিভাবকদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে স্কুল পরিচালন সমিতিতে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। সরকারের মতে, শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখন মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং তার সুফল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়গুলি কতটা পায়, সেদিকেই নজর থাকবে শিক্ষা মহলের।




