আচমকাই বিপর্যয়! মাত্র ১ ঘণ্টায় বিধ্বস্ত ২০০ পরিবারের গোটা গ্রাম, অসমে বন্যার ভয়াবহ ধ্বংসলীলা

সবদিক নিউজ: বর্তমানে ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছে অসম (Assam Flood)। যার ফলে ঘটেছে বিপুল প্রাণহানি এবং প্রভাবিত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এদিকে, অসমের শিবসাগর (Sivasagar) জেলায় দিখো নদীও তার ভয়ঙ্কর রূপ দেখিয়েছে। এই বিধ্বংসী বন্যায় মাত্র এক ঘণ্টায় একটি গোটা গ্রামকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে ওই নদী। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে আসাম-নাগাল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হিলনি নেপালি খুটি (Nepali Khuti) গ্রামটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একসময়ের জনবসতিপূর্ণ এই গ্রামটি এখন বন্যার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সেখানে প্রায় ২০০টি গোর্খা পরিবার বংশানুক্রমে বসবাস করে আসছিল।
অসমে বন্যার (Assam Flood) ভয়াবহ ধ্বংসলীলা:
নাগাল্যান্ডের বৃষ্টিতে ধ্বংসলীলা: জানিয়ে রাখি যে, গত ১৯ জুলাই, নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে দিখো নদীর জলস্তর তীব্রভাবে বেড়ে যায়। সেই সময়, গ্রামবাসীরা প্রতি বছরের মতো স্রোতে ভেসে আসা কাঠ ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করছিলেন। কিন্তু, নদীটি দ্রুত ফুলে উঠে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে এবং ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, গবাদি পশু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
#WATCH | असम: असम के शिवसागर ज़िले का नेपालीखुटी इलाका डिखो नदी की बाढ़ से बुरी तरह प्रभावित हुआ है। घर, खेत, मवेशी और लोगों की आजीविका सब बह गए हैं और रेत व गाद के नीचे दब गए हैं।
बाढ़ का पानी उतरने के बाद भी नेपालीखुटी में हालात बहुत खराब हैं। पूरे गाँव में कई फ़ीट ऊँची रेत और… pic.twitter.com/hmKXdepbU8
— ANI_HindiNews (@AHindinews) July 29, 2026
সেই ভয়াবহ ঘটনার প্রসঙ্গ উপস্থাপিত করে ৩৮ বছর বয়সী বলরাম শর্মা বলেন যে, শুরুতে কেউই এই বিপদের বিষয়টি বুঝতে পারেনি। হঠাৎ করে জল দ্রুত বেড়ে যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো গ্রামটি ডুবে গিয়েছিল। তিনি বলেন, মানুষ নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ারও সময় পায়নি। উদ্ধারকারী দল নিরাপদে উদ্ধার করার আগে তাঁর পরিবার দুই দিন ধরে উঁচু জায়গায় আটকা পড়েছিল।
১,০৭২ দিন টিম ইন্ডিয়ার বাইরে! অশ্রুসিক্ত নয়নে অবসর ঘোষণা অজিঙ্ক রাহানের, অনুরাগীদের জানালেন কৃতজ্ঞতা
বহু মানুষ মারা গেছেন, পরিবারগুলি গৃহহীন: বলরাম শর্মার মতে, এই দুর্ঘটনায় তাঁর অন্তত ৭ জন প্রতিবেশী প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে, ৩৫ বছর বয়সী প্রকাশ শর্মা তাঁর নৌকায় করে পরিবারের ১৪ জনকে উদ্ধার করলেও, তাঁর ৬০ টি গবাদি পশুর মধ্যে মাত্র ৪ টি প্রাণে বেঁচেছে। তাঁর পরিবার বর্তমানে তিনসুকিয়া জেলার মার্গেরিটায় আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। প্রকাশ শর্মা বলেন, গ্রামটির স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগতে পারে। তাঁর মতে, গ্রামবাসীরা শুধু তাঁদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তিই হারাননি, বরং তাদের সম্পূর্ণ জীবনযাত্রা ও জীবিকাও হারিয়েছেন।
চিনে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা! প্রভাবিত হবে ভারত? কী জানালেন বিশেষজ্ঞরা?
বন্যায় হাজার হাজার গবাদি পশু ভেসে গেছে: উল্লেখ্য যে, ওই গ্রামটির অর্থনীতি পুরোপুরি ডেয়ারি ফার্মিংয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল। গ্রামবাসীদের মতে, গ্রামে প্রায় ৪,০০০ গবাদি পশু ছিল। সেগুলির বেশিরভাগই বন্যায় ভেসে গেছে। বলরাম শর্মা তাঁর ২৩ টি গবাদি পশুর মধ্যে ১৬ টি হারিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর একাধিক প্রতিবেশী তাঁদের সমস্ত গবাদি পশু হারিয়েছেন। গ্রামের পরিবারগুলি দুধ বিক্রি করে প্রতি মাসে ৫০,০০০ টাকার বেশি আয় করত এবং গরু বিক্রি থেকেও প্রতি বছর যথেষ্ট আয় হত। তবে, এই ভয়াবহ বন্যার পর গ্রামটি বালি, পাথর, উপড়ে পড়া গাছ, ভাঙা টিনের চাল এবং বাঁশের কাঠামোতে ছেয়ে গেছে। একাধিক জায়গায় মৃত পশুর দেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একসময়ের এই প্রাণবন্ত গ্রামটি এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর রীতিমতো জনশূন্য মনে হচ্ছে।




