Industry Minister Tapas Roy Tata Comeback West Bengal Singur

সবদিক নিউজ: ছাব্বিশের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের বন্ধ দরজা কি এবার অবশেষে খুলতে চলেছে? নতুন সরকার গঠনের পর শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের’ দায়িত্ব পেয়েছেন কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায় (Tapas Roy)। আর নবান্নের এই হাই-প্রোফাইল চেয়ারে বসেই বাংলার রাজনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বিতর্কিত অধ্যায়ে হাত দিলেন তিনি। মন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনই তাপস রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর প্রধান ও মূল লক্ষ্য হল রুগ্ন পশ্চিমবঙ্গকে আবার শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা এবং যে সমস্ত বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী অতীতে রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তাদের সসম্মানে ফিরিয়ে আনা। আর এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ‘টাটা’ (Tata Group) গোষ্ঠী। মন্ত্রীর এই অভূতপূর্ব আশ্বাসে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ফের নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন সিঙ্গুরের মানুষ।
“প্রয়োজনে টাটাদের হেডকোয়ার্টারে যাব”, আবেগঘন শিল্পমন্ত্রী
২০০৮ সালে সিঙ্গুর থেকে টাটাদের ন্যানো গাড়ি কারখানা বিদায় নেওয়ার পর দেশজুড়ে বাংলার শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে যে মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছিল, তা মোছার জন্য কোমর বেঁধে নামছে নতুন সরকার। ইতিপূর্বেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য টাটাদের রাজ্যে ফেরানোর সওয়াল করেছিলেন। এবার খোদ শিল্পমন্ত্রীর মুখেও শোনা গেল সেই একই সুর।
আবেগঘন কণ্ঠে তাপস রায় বলেন, “আজকে যদি শ্রদ্ধেয় রতন টাটা বেঁচে থাকতেন, আমি নিজে তাঁর কাছে ছুটে গিয়ে হাত জোড় করে অনুরোধ করতাম, তিনি যেন বাংলায় ফিরে আসেন। টাটাদের ফিরিয়ে আনতে আমি প্রয়োজনে মুম্বইয়ে ওদের হেডকোয়ার্টারে যাব। টাটা ছাড়াও যে সমস্ত নামী বিনিয়োগকারীরা চলে গিয়েছেন, তাঁদের হাতে-পায়ে ধরে, সমস্ত রকম সহযোগিতা করে রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনব।”
পূর্বতন সরকারের ‘তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট’কে তীব্র আক্রমণ
বিনিয়োগকারীদের রাজ্য ছাড়ার নেপথ্যে আগের জমানার সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি সংস্কৃতিকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন নতুন শিল্পমন্ত্রী। তাপস রায়ের মারাত্মক অভিযোগ, “বিগত সরকারগুলির আমলে মাত্রাতিরিক্ত তোলাবাজি এবং প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে দিশেহারা হয়ে শিল্পপতিরা রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। আগের জমানার মন্ত্রীদের নজর ছিল শুধুমাত্র নিজেদের পারিবারিক বৈভব এবং ভাইপোদের সাম্রাজ্য বাড়ানো ও ব্যক্তিগত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করার দিকে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন বা যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁদের কোনও মাথাব্যথাই ছিল না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, নতুন সরকার রাজ্যে এক ললিত ও স্বচ্ছ শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চলেছে, যেখানে কোনও তোলাবাজির জায়গা থাকবে না।
সিঙ্গুরেই কি ফিরবে কারখানা? বাড়ছে কৌতুহল
বাম আমলে সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানার জন্য অধিগৃহীত জমি নিয়ে তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আন্দোলনের জেরে টাটারা গুজরাটের সানন্দে চলে যায়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, বর্তমান বাস্তবতায় সেই উর্বর জমি আর চাষযোগ্য হয়ে ওঠেনি। ফলে বছরের পর বছর ধরে পড়ে রয়েছে সিঙ্গুরের সেই বিস্তীর্ণ প্রান্তর।
নতুন শিল্পমন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট করে বলেননি যে টাটাদের ঠিক সিঙ্গুরের জমিতেই ফেরানো হবে নাকি অন্য কোনও বিকল্প জায়গা দেওয়া হবে। তবে হুগলির সিঙ্গুরবাসী মন্ত্রীর এই অনড় জেদ ও বড় ঘোষণায় চরম আশাবাদী। সিঙ্গুরের যুবকদের একটাই দাবি, চাষ যখন হচ্ছে না, তখন আমাদের ঘরের দুয়ারে কারখানা ফিরে আসুক এবং ঘরের ছেলেদের ঘরের মাঠেই কর্মসংস্থান হোক।



