0%

Job card, land dalil recovered from Trinamool Congress party office in garbeta

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বন্ধ তৃণমূলের কার্যালয়। সন্দেহের বশেই আজ, রবিবার ওই কার্যালয়ে ঢোকেন স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীরা। ভিতরে ঢুকতেই রীতিমতো চমকে ওঠেন তাঁরা। দেখেন, তৃণমূলের আলমারিতে একেবারে থরে থরে সাজানো কয়েকশো জব কার্ড! শুধু তাই নয়, রয়েছে ভোটার কার্ড এবং জমির দলিলও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গড়বেতা তিন নম্বর ব্লক চন্দ্রকোনারোডের করসা ২ নম্বর অঞ্চলের ছোটতাড়া এলাকায়। এটি শালবনী বিধানসভার অন্তর্গত। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে কীভাবে সরকারি নথি ও সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র উদ্ধার হল তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। 

এই বিষয়ে আরও খবর

ঘটনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটতাড়া এলাকার ওই তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই বন্ধ ছিল। রবিবার সকালে এলাকার কিছু বিজেপি কর্মী আচমকা লক্ষ্য করেন যে বন্ধ পার্টি অফিসটি খোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অফিসের সামনে একটি টোটো দাঁড় করিয়ে তড়িঘড়ি কিছু মালপত্র ও নথিপত্র সরানোর চেষ্টা চলছে। এই দৃশ্য দেখে সন্দেহ হওয়ায় বিজেপি কর্মীরা সেখানে জড়ো হন এবং কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকেন। বিজেপির শালবনী এক নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক বাপন মল্লিক, পলাশ সেনরা জানান, দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আলমারিগুলি খুলতেই কার্যত হতবাক হয়ে যায়। দেখা যায়, আলমারির ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে একশো দিনের কাজের জব কার্ডের বই। এর সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ভোটার আইডি কার্ড থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষের জমির আসল দলিল ও বিভিন্ন সরকারি নথিপত্র। এসব নথিপত্র গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে না থেকে পার্টি অফিসে কেন আছে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। দলে দলে সাধারণ মানুষ ও বিজেপি সমর্থকরা এসে ভিড় জমান ওই কার্যালয়ের সামনে। খবর দেওয়া হয় গড়বেতা থানায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গড়বেতা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার হওয়া সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু করে।

বাপনবাবুদের দাবি, আলমারির একটি বড় অংশ এখনও খোলা সম্ভব হয়নি। লক থাকায় সেটি বন্ধ আছে। এলাকাবাসীর দাবি, আলমারির ওই বন্ধ অংশটি খোলা সম্ভব হলে সেখান থেকে আরও বহু অবৈধ নথিপত্র এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের একশো দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ করতে এবং ভোটের স্বার্থে ভয় দেখিয়ে এই সমস্ত কার্ড আটকে রাখা হয়েছিল। এটি একটি বিশাল দুর্নীতির অংশ।

অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এর পেছনে কোনও চক্রান্ত থাকতে পারে, পুলিশ তদন্ত করলেই সত্য সামনে আসবে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের গোপন আলমারিতে কেন সাধারণ মানুষের হাজার হাজার জব কার্ড এবং ভোটার কার্ড মজুত রাখা হয়েছিল? কার স্বার্থে এবং কোন উদ্দেশ্যে এই নথিপত্রগুলো আটকে রাখা হয়েছিল, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে গড়বেতা থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই বিষয়ে আরও খবর

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker