Saokat Molla NIA Missing Bhangar Blast Case Bangladesh Escape

সবদিক নিউজ: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্তদের কোমর ভাঙতে মরিয়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এবার ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে (Saokat Molla) হন্যে হয়ে খুঁজছে এনআইএ (NIA)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের একাধিক জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশির পর অবশেষে শওকতকে সরকারিভাবে ‘পলাতক’ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। তিনি যাতে কোনওভাবেই দেশ ছাড়তে না পারেন, তার জন্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সীমান্তে সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বা বিএসএফ (BSF)-এর কাছে শওকতের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য ও ছবি শেয়ার করা হয়েছে।
তল্লাশির আগেই চম্পট শওকত, ছেলে আটক
বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় এক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ গুরুতর জগত জখম হন। সেই মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েই সম্প্রতি গতি বাড়িয়েছে এনআইএ। দিনকয়েক আগেই আহিদুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল।
তাঁর সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার সাতসকালে শওকত মোল্লার বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে হানা দেয় এনআইএ-র একাধিক দল। কিন্তু তদন্তকারীরা পৌঁছানোর ঠিক আগেই এলাকা ছাড়েন প্রাক্তন বিধায়ক। দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করার পর, শওকতের ‘নদীচোর’ বলে পরিচিত ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভেতরে ঢোকেন আধিকারিকরা। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষ পর্যন্ত শওকতের ছেলেকে গ্রেফতার করে পুলিশ, কিন্তু বেপাত্তা রয়ে যান বাবা।
লাল পোশাকে বাসন্তীর রাস্তায়! বাংলাদেশ পালানোর মেগা প্ল্যান
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শওকতকে শেষবার লাল রঙের পোশাক পরে বাসন্তীর চুনাখালি এলাকায় একজনের বাইকের পিছনে চড়ে যেতে দেখা গিয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, বাসন্তীর খেয়াঘাট পেরিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার দাদবেড়িয়া খেয়াঘাটে পৌঁছানোর ছক কষেছিলেন তিনি। কারণ সেখান থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত একেবারেই কাছে। নদী পেরিয়ে ওপার বাংলায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু খেয়াঘাটে স্থানীয় বাসিন্দারা শওকতকে চিনে ফেলে পথ আটকানোর চেষ্টা করতেই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তিনি রুট বদল করেন।
এনআইএ-র কাছে খবর আসে, এরপরই বাসন্তীর এক মাদ্রাসার দিকে গা ঢাকা দিয়েছেন শওকত। এই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতভর কেন্দ্রীয় বাহিনী ও এনআইএ আধিকারিকরা ওই মাদ্রাসা, আশেপাশের এলাকা এবং সংলগ্ন গভীর জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি চালায়। কিন্তু তিনটি মোবাইল ফোনই বন্ধ থাকায় শওকতের সঠিক টাওয়ার লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে তিনি কোনও এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন বলে অনুমান গোয়েন্দাদের। ভাঙড়ের বেতাজ বাদশার এই পরিণতি এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় ব্রেকিং নিউজ।



