Ujjal Biswas Arrested Relief Theft Case Mahua Moitra TMC

সবদিক নিউজ: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর পূর্বতন শাসকদলের হেভিওয়েটদের ওপর আইনি খাঁড়া নেমে আসার পর্ব যেন কিছুতেই থামছে না। এবার ত্রাণসামগ্রী চুরির মারাত্মক অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাস (Ujjal Biswas)। মঙ্গলবার কৃষ্ণনগরে তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যেতে হয় পুলিশকে। আর এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নথিপত্র তুলে ধরে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ত্রাণচুরির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ডিম-বৃষ্টি, মারধর এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে কৃষ্ণনগরে উজ্জ্বল বিশ্বাসের খাস বাসভবনে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, আমফানের পর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালের বহু সরকারি ত্রাণসামগ্রী অন্যায়ভাবে নিজের বাড়িতে মজুত করে রেখেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। মঙ্গলবার সকালে তাঁর বাড়ির সামনে দাঁড়ানো একটি গাড়িতে সরকারি সিলমোহর দেওয়া ত্রিপল তুলতে দেখেই সন্দেহ দানা বাঁধে স্থানীয়দের মনে। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শয়ে শয়ে মানুষ মন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করেন।
উত্তেজিত জনতার একাংশ উজ্জ্বল বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে এবং তাঁকে হাতেনাতে ধরে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে ‘চোর চোর’ স্লোগানের মাঝখান থেকে প্রাক্তন মন্ত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মহুয়ার দাবি, “আমি নিজে থানায় ফোন করায় পুলিশ বলেছিল যে জনরোষ থেকে বাঁচাতে তাঁকে আনা হয়েছে, অথচ পরে গ্রেফতার দেখানো হল!”
“সবটাই বিজেপির সাজানো চিত্রনাট্য”, নথি দেখালেন মহুয়া
ত্রাণচুরির তত্ত্ব পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে মহুয়া মৈত্র জানান, বর্ষার মরশুমের আগে সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের কাছেই আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য সরকারি ত্রাণ ও ত্রিপল পাঠানো হয়। তা বাড়িতে বা গোডাউনে রাখাটাই স্বাভাবিক নিয়ম। গত ৪ জুন নতুন সরকারের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রাক্তন বিধায়কদের কাছে থাকা সমস্ত উদ্বৃত্ত ত্রাণসামগ্রী ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়।
মহুয়ার দাবি, প্রশাসনের তরফে কেউ যোগাযোগ না করায় গত ৮ জুন উজ্জ্বল বিশ্বাস নিজেই এসডিও (SDO) এবং বিডিও-র (BDO) সঙ্গে যোগাযোগ করে মালপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। সেইমতো মঙ্গলবার সরকারি গাড়ি উজ্জ্বলবাবুর বাড়িতে ওই জিনিসপত্র ফেরত নিতে এসেছিল। আর ঠিক সেই সময়েই বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তুলে এই অশান্তি ও হেনস্তার চক্রান্ত তৈরি করেছে। এই গ্রেফতারি আসলে এক নোংরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে নদিয়ার রাজনৈতিক অলিন্দে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।



