অত্যধিক ভিড়ে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত, আহত অন্তত ২৫

খবর অনলাইন ডেস্ক: সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে গিয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হল উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজোমণ্ডপে। বাইরে তখন বৃষ্টি। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ভিড় বাড়তে থাকে। তাতেই পদপিষ্ট হয়ে এই মৃত্যু। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই ১৭ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তিত ২৫ জন। আহতদের ভর্তি করা হয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আপাতত পুজোমণ্ডপে দর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিবিয়ে দেওয়া হয়েছে চোরবাগানে পুজোর আলো।
ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টি শুরু হতেই মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষা করা দর্শনার্থীরা ভিতরে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। সেই সময় কয়েক জন রাস্তায় পড়ে যান। এর জেরেই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক।
– বিজ্ঞাপন –
কলকাতা পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার রাত ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ গিরিশ পার্ক থানার অন্তর্গত সারদা পার্ক (চোরবাগান) পুজোমণ্ডপের বেরোনোর গেটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় জমেছিল। আহতদের উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কন্ট্রোল রুম থেকে অতিরিক্ত বাহিনী, দমকল, কলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্য এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয়। আপাতত দর্শনার্থীদের জন্য পুজোমণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
মণ্ডপে আসা বেশ কয়েক জন দর্শনার্থীর অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের তরফে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে খবর, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরও বেশ কয়েক জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। উদ্ধারকাজে নামানো হয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যদের। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছোন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
ঘটনার পর রাজ্য সরকারের তরফে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ নম্বরে ফোন করার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
শোকপ্রকাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির খবরে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও শক্তি জোগানোর জন্য দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেছেন তিনি।
দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি কুণাল ঘোষের
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
হাসপাতালে আরও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করারও দাবি জানিয়েছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ পরে করা যেতে পারে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হল আহতদের প্রাণ বাঁচানো এবং গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।



