অভিষেকের ‘ইস্তফা চ্যালেঞ্জের’ ১২ ঘণ্টাতেই পাল্টা! ভাইপোকে রাজনীতির পাঠ পড়ালেন তারকা সাংসদ শতাব্দী

সবদিক নিউজ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর থেকেই দলজুড়ে ভাঙন ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার দলত্যাগী নেতাদের উদ্দেশে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন ‘কালীঘাট’ শিবিরের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পালটা প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্তমানে এনসিপিআই নেতা শতাব্দী রায়। শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিষেক বলেছিলেন, যাঁরা দল ছেড়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, তাঁরা যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরে আসেন, তা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি নিজের দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। এই মন্তব্যের জবাবে শতাব্দীর কটাক্ষ, “এই কথা ৪ মে ভাবলে ভালো হতো।” রবিবার দিল্লিতে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ওই বৈঠকে শতাব্দী রায়-সহ তৃণমূলত্যাগী ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকে আমন্ত্রণ জানান। স্বীকৃত রাজনৈতিক দল না হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের কেন ডাকা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল-সহ বিরোধী শিবিরের একাংশ। প্রতিবাদে বৈঠক থেকে ওয়াকআউটও করেন কয়েকজন বিরোধী নেতা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকেরা অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে শতাব্দীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। উত্তরে বীরভূমের চারবারের প্রাক্তন সাংসদ বলেন, “অভিষেক অনেক দেরি করে ফেলেছেন। এই কথা ভোটের ফলপ্রকাশের দিন ভাবলে ভালো হতো। ৫ মে ইস্তফা দিলে তৃণমূল এভাবে ভেঙে টুকরো টুকরো হতো না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেত্রীরও আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।” শনিবার অভিষেক দলত্যাগী নেতাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তাঁরা যদি সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত হন, তা হলে দলে ফিরে আসুন। তাঁর দাবি, বিদ্রোহী নেতারা আর ফিরবেন না, কারণ তাঁরা ইতিমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়া করে ফেলেছেন। অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, দল ছেড়ে বিদ্রোহী শিবির অথবা বিজেপিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন কয়েকজন নেতা। পরে নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় তাঁর উপরে চাপানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে রবিবার সকালে কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার সময় দমদম বিমানবন্দরে অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ ও মালা রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। তবে কেউই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। একসময় অভিষেক-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সায়নী ঘোষের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, “উনি কী বলেছেন, তা আমি শুনিনি। তাই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।” অভিষেক ও শতাব্দীর এই বাক্যুদ্ধ তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বকে নতুন করে প্রকাশ্যে আনল। একদিকে কালীঘাট শিবির দলত্যাগীদের ফিরে আসার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্রোহীরা নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় সরাসরি অভিষেকের নেতৃত্বের উপর চাপাচ্ছেন।



