‘আমাদের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল’—কাকে ইঙ্গিত করলেন কুণাল? সরগরম রাজ্য রাজনীতি

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে মদন মিত্রকে ঘিরে জল্পনা যেন থামছেই না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে তাঁর যোগদানের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এরই মধ্যে কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কদের কর্মসূচিতে তাঁর হঠাৎ উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল। শুধু উপস্থিতিই নয়, কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) মন্তব্য এবং মদনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া নতুন করে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
মদন মিত্র প্রসঙ্গে কী বললেন কুণাল (Kunal Ghosh) ?
সম্প্রতি কালীঘাট তৃণমূলের একাধিক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি চর্চিত নাম মদন মিত্র। স্ত্রী ও দুই পুত্রের কাছে ইডির নোটিস পৌঁছনোর ঠিক পরের দিনই তিনি শিবির বদল করেন। শুক্রবার সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিতে বিধানসভার বি আর আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কেরা। সেই কর্মসূচি চলাকালীন আচমকাই সেখানে পৌঁছে যান কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র।
এদিন মদনকে পাশে রেখে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা এটুকু জেনে রাখছি, আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।”
এরপর কুণাল আরও বলেন, “শারীরিকভাবে হয়ত ওদিকে গিয়েছেন। কিন্তু, মদনদাও বিশ্বাস করেন, ধর্ষক কে। মদনদার মন অন্যদিকে পড়ে রয়েছে। কাপুরুষের মতো ইডি দিয়ে বৌদি আর ছেলেদের নোটিস দিয়েছে। ফলে আমরা চাই, মদনদাও ভালো থাকুক। দু-চারদিন যা মন চায়, প্রাণ চায় বলুক। আমরা এটুকু জেনে রাখছি, আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।”
কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই এর মধ্যে ইঙ্গিত খুঁজতে শুরু করেছেন—তবে কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের অন্দরে নজর রাখার বার্তাই দিতে চাইল কালীঘাট তৃণমূল? যদিও এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে জল্পনা আরও বাড়িয়ে কুণালের মন্তব্যের জবাব দেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “আমি চাই, শোভনদা (শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়) আগামী দশ বছর বিরোধী আসনে বসুক।” মদনের এই মন্তব্য শুনে সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এটা তুই কী বললি। ১০ বছর বিরোধী আসনে বসব। আবার আসিব ফিরে।”

আরও পড়ুন : ‘নাম বাদ পড়বে..,’ অগাস্ট মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ছাড়ার আগেই ‘খারাপ খবর’ দিলেন মন্ত্রী
একদিকে ঋতব্রত শিবিরে যোগদান, অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে উপস্থিতি—মদন মিত্রের এই দ্বৈত রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। কুণাল ঘোষের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং মদনের প্রতিক্রিয়া সেই বিতর্কে আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয়।




