একুশের আগেই বড় ধাক্কা পেতে পারেন মমতা! এবার ঋতব্রত শিবিরে যেতে পারেন এই ‘হেভিওয়েট’

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০২৬ এর নির্বাচনের তৃণমূল (Trinamool Congress) হারের পর থেকে চলছে দলবদলের পালা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরের যোগ দিয়েছে বহু নেতা। এই আবহে এবার উঠে এল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নাম। ভোটে হারের পর থেকেই ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu) খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাই তাঁকে নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। এবার নতুন করে শোনা যাচ্ছে, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিতে পারেন।
তৃণমূলে (Trinamool Congress) ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu) নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। দমদম কেন্দ্র থেকে হেরে গিয়েছেন ব্রাত্য বসুও (Bratya Basu)। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। সেই কারণেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে খবর, ব্রাত্য বসু নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যেতে পারেন। যদিও এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত ব্রাত্য বা ঋতব্রত, কেউই মুখ খোলেননি।
বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে দল (Trinamool Congress) ছাড়ার প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যাঁদের চলে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, তাঁরা যেন ২১ জুলাইয়ের আগেই চলে যান। কাউকে আটকানো হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই ব্রাত্যকে নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, দমদম থেকে টানা তিনবার বিধায়ক হয়েছিলেন ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। তৃণমূল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু ভোটে হারের পর তাঁর নীরবতা অনেকের নজর কেড়েছে। শুধু ব্রাত্য বসুই নন, মানবাজারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সন্ধ্যারাণী টুডুকেও নিয়ে একই ধরনের জল্পনা চলছে। জঙ্গলমহলে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাই তিনি যদি ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন, তাহলে সেই শিবির আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটের পর থেকেই তৃণমূলের ভিতরে মতবিরোধ সামনে এসেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন করেছেন ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক। তাঁরা নিজেদেরও তৃণমূলের অংশ বলে দাবি করছেন। এই নিয়ে দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। তবে কমিশনের তরফে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
রাজ্যের বাইরে দিল্লিতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। তৃণমূলের একাংশ সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে কয়েকজন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা এনডিএকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ মুর্শিদাবাদে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা! স্কুলপড়ুয়াদের গাড়িতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কা, চার জনের মৃত্যু
এদিকে রাজ্যসভা থেকেও একাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন। সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক, সুস্মিতা দেব এবং কোয়েল মল্লিক ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ভোটের পর তৃণমূলের (Trinamool Congress) অন্দরে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu)ঘিরে নতুন জল্পনা সেই আলোচনাকেই আরও উসকে দিয়েছে।




