‘এবার গোটা বাংলার কথা ভাবতে হবে’, পরিচারিকা থেকে মন্ত্রী হওয়ার সফর সহজ ছিল না কলিতার

বাংলা হান্ট ডেস্ক : নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যের মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বিজেপি বিধায়ক কলিতা মাঝি (Kalita Majhi)। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর এবার মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে উচ্ছ্বসিত তিনি। শপথগ্রহণের পর নিজের রাজনৈতিক যাত্রা, এলাকার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী।
মন্ত্রীত্ব পেয়ে কী বললেন কলিতা মাঝি (Kalita Majhi)?
১লা জুন লোকভবনে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কলিতা মাঝি। শপথ গ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন কলিতা। জীবনে কখনও মন্ত্রী হওয়ার কথা ভেবেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “বিধায়ক হব, সেটাই তো কখনও ভাবিনি।”
কলিতা মাঝি আরও বলেন, “আমার বিধানসভার জন্য প্রথম কাজ ছিল হাসপাতাল বানানো এবং ফায়ার ব্রিগেড, জল… মানুষের জলের খুব অসুবিধা ছিল… যখন বিধায়ক ছিলাম, তখন এটা ছিল আমার প্রতিশ্রুতি। এখন গোটা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে, চিন্তাভাবনা অনেকটাই বেশি।”
যদিও এখনও পর্যন্ত মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও নতুন দায়িত্ব নিয়ে তাঁর ভাবনা কী— সেই প্রশ্নও করা হয় তাঁকে। উত্তরে কলিতা জানান, “আগে তো শুধু আউশগ্রামের বিধায়ক হয়েছিলাম। তবে এখন মন্ত্রী হলাম। এবার তো আর শুধু আউশগ্রামের কথা ভাবলে চলবে না, গোটা পশ্চিমবঙ্গের কথা ভাবতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপির প্রার্থী হিসেবে আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কলিতা মাঝি। তবে সে সময় জয় অধরা ছিল। এরপর লোকসভা নির্বাচনে দলের ব্যর্থতার পরও বিজেপি তাঁর উপর আস্থা রেখে ফের একই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে। গুসকরা শহরের বাসিন্দা, পেশায় পরিচারিকা কলিতা মাঝি এবার সেই আস্থার মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি তৃণমূল প্রার্থীকে সাড়ে বারো হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন : না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, না যুবশক্তি, এই সরকারি প্রকল্পে মিলবে ২০০০ টাকা! কারা আবেদন করবেন?
মন্ত্রীত্বের নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর কলিতা মাঝির সামনে এখন শুধু নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নয়, সমগ্র রাজ্যের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ। পরিচারিকা থেকে রাজ্যের মন্ত্রী— এই দীর্ঘ পথচলার নতুন অধ্যায়ে তাঁর উপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে প্রত্যাশার পারদ।




