‘কয়লার জন্য দিনে ৪০ লক্ষ দিতে হত’! মমতার হাত ছাড়ার পর বোমা ফাটালেন অনুব্রত

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সম্প্রতি নতুন তৃণমূলের বীরভূমের জেলা সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছে। এবার ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। কেষ্ট দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) জন্য তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে।
মমতার হাত ছেড়েই বিস্ফোরক অনুব্রত | (Anubrata Mondal)
বুধবার ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন তৃণমূলের বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অনুব্রত। তাঁকে রাজনৈতিক অবস্থান সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে বলেন, “ঋতব্রতও তৃণমূল, আমিও তৃণমূল।“ একইসঙ্গে জানান, প্রথম থেকেই তিনি নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন, এখনও দলেই রয়েছেন। তবে জেলযাত্রা সংক্রান্ত প্রশ্ন করতেই ক্ষোভ উগড়ে দেন কেষ্ট।
আরও পড়ুনঃ ৫ লাখ অতীত! এবার একধাক্কায় ১০ লাখ হতে চলেছে আয়ুষ্মান কার্ডের লিমিট? সামনে এল বিরাট আপডেট
সিবিআই ও ইডির মামলার কারণে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হল কিনা জিজ্ঞেস করায় অনুব্রত বলেন, “ওসব বাজে কথা বলবেন না। আমি কেন, কী জন্য, কার জন্য জেলে গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওর জন্য জেলে গিয়েছি।“
কেষ্ট এদিন জানান, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর মমতা তাঁকে চারবার ফোন করেছিলেন। দলনেত্রীকে কী বলেছিলেন সেটাও জানান তিনি। অনুব্রত বলেন, “আমি বলেছি তুমি চোখে দেখো না, কানে দেখো! আর শুধরে যাও গা। অভিষেককে তুলে নাও।“
এখানেই না থেমে আরও বিস্ফোরক দাবি করেন এই দাপুটে তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, “বীরভূম থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা রেভিনিউ পেত সরকার। পরে কয়লার জন্য রোজ ৪০ লক্ষ টাকা করে দিতে হত।“
এদিকে এদিন মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন মদন মিত্রও। তিনি শিবির বদলের পর অভিষেককে তুলোধোনা করেছেন। কামারহাটির বিধায়ক দাবি করেন, ইডির থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর ‘এবি’।

মদনের কথায়, “দলের পরিণতির জন্য শুধুমাত্র অভিষেক দায়ী। ইডির থেকেও বেশি ভয়ানক এবি। হিটলারের মতো দল চালাত। ওর জন্য অনেককে জেলে যেতে হয়েছে। যে টাকা দেয়নি, তাঁরই জেলযাত্রা হয়েছে।“
এদিন দুপুরে ঋতব্রতদের নতুন তৃণমূলে যোগদানের পর এই দাবিগুলি করেছিলেন মদন। বিকেলে অনুব্রতর কণ্ঠেও শোনা গেল প্রায় একই সুর। অভিষেকের জন্য তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে বলে দাবি করেন কেষ্ট। একইসঙ্গে দাবি করেন, আগামীদিনে আর কেউ তৃণমূলে থাকবে না। শেষ হয়ে যাবে।




