জলের নিচেও আর নেই রেহাই! শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শিকারে ভারতীয় নৌবাহিনী পেল Seahawk হেলিকপ্টার

সবদিক নিউজ:ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) আধুনিকীকরণের পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক এমএইচ-৬০আর সিহক (MH-60R Seahawk) নৌ-হেলিকপ্টারের আরও একটি ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে কেরলের কোচিতে এই হেলিকপ্টার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শুধু একটি নয়, চলতি সপ্তাহেই একই সিরিজের আরও দুটি সিহক হেলিকপ্টার ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই সংযোজনের ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং সামুদ্রিক যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শিকারে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) পেল Seahawk হেলিকপ্টার:
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে আরও গভীর হয়েছে। সেই সম্পর্কেরই নতুন উদাহরণ হিসেবে এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টারের সংযোজনকে উল্লেখ করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, এই পদক্ষেপ দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি উভয় দেশের যৌথ প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করবে। মার্কিন দূতাবাসও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লকহিড মার্টিনের তৈরি এই উন্নত নৌ-হেলিকপ্টার আধুনিক সেন্সর, অস্ত্র ব্যবস্থা এবং সাবমেরিন-বিরোধী অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিতে সজ্জিত। ফলে সমুদ্রপথে নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।
স্বাধীন ‘বালোচিস্তান’-এর দাবির পরেই পাক সেনার কনভয়ে ভয়াবহ হামলা বালোচদের, মৃত কমপক্ষে ৪৫ জওয়ান
এই হেলিকপ্টারগুলি ভারতের সামরিক অভিযানে ইতিমধ্যেই নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ এমএইচ-৬০আর সিহককে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এই প্ল্যাটফর্ম। গত বছর দ্বিতীয় সিহক স্কোয়াড্রনের উদ্বোধনের সময় তৎকালীন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠীও এই হেলিকপ্টারের প্রশংসা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এমএইচ-৬০আর একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম, যা আধুনিক নৌযুদ্ধের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা বহন করে। সরকারের তরফেও জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানে এই হেলিকপ্টারের পারফরম্যান্স ভারতীয় নৌবাহিনীর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
ভারতের নৌ-শক্তিকে আধুনিক করার লক্ষ্যে ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন মিলিটারি সেলস (FMS) কর্মসূচির আওতায় ২৪টি এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার কেনার জন্য একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেরলের আইএনএস গরুড় ঘাঁটিতে প্রথম দফার হেলিকপ্টারগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই বহরকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রায় ৭,৯৯৫ কোটি টাকার একটি বিস্তৃত ‘সাস্টেইনমেন্ট প্যাকেজ’-এ অনুমোদন দেয়। এই প্যাকেজের আওতায় রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা হবে, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে এই হেলিকপ্টারগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারে।

নতুন ইতিহাস ভারতের! সফলভাবে মহাকাশে পাড়ি দিল প্রথম বেসরকারি রকেট বিক্রম-১
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমএইচ-৬০আর সিহক শুধু একটি হেলিকপ্টার নয়, এটি ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করা, সমুদ্রে নজরদারি চালানো, যুদ্ধজাহাজকে সুরক্ষা দেওয়া এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একাই পালন করতে সক্ষম এই প্ল্যাটফর্ম। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই হেলিকপ্টারগুলির ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান শক্তিও এই সংযোজনের মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল (Indian Navy)।




