0%

দু-দু’বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল আবেদন! অবশেষে কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় রাজি হলেন মোদি?

AK Bangla Desk: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিতর্কের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সূত্রের খবর, রাজপথে বিক্ষোভের আঁচ প্রথম অনুধাবন করেই পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য এক নয়, বরং দু-দু’বার সরকারের উচ্চনেতৃত্বের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেসময় তাঁর আর্জি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে শনিবার আচমকাই নাটকীয় মোড় নিয়ে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু সরকারের গোড়ার অবস্থান বদলে ঠিক কী এমন ঘটল, যা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রকে ইস্তফা গ্রহণে বাধ্য করল?

নিট কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরপরই যখন সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেন এবং দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির হাত ধরে আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে, তখনই পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। তবে মোদি সরকারের নীতি ছিল স্পষ্ট, সংকট থেকে পালিয়ে না গিয়ে পদে থেকে তার মোকাবিলা করা। এমনকী ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের মেগা সংসদ অভিযানের পর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার প্রস্তাব দ্বিতীয়বার নাকচ করে দেওয়া হয়।

কিন্তু পরবর্তী মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানেই বদলে যায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সমীকরণ। এর নেপথ্যে রয়েছে ‘ককরোচ’ প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দেন যে, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না এবং প্রয়োজন পড়লে আবারও রাজধানী অচল করে বিপুল বড় মাপের ‘সংসদ অভিযান’ চালানো হবে।

শুধু তাই নয়, সরকারের কাছে আসা গোয়েন্দা রিপোর্টেও চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে আসে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, রাজপথে দেশের পড়ুয়াদের স্বাভাবিক ক্ষোভ ও আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে দেশের মধ্যে নৈরাজ্য ছড়ানোর ছক কষছে কিছু ভারতবিরোধী শক্তি। এই তথ্য সামনে আসতেই দেশজুড়ে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মোদি সরকার। এর পরেই তড়িঘড়ি ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা মেনে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও তাঁর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে নেন।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker