বুলডোজার চলতেই উল্লাস! অভিষেকের অফিস ভাঙতে হাত লাগালেন স্থানীয়রা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শনিবার দুপুরে আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সাংসদ কার্যালয় ঘিরে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বুলডোজার চালিয়ে কার্যালয়ের বেশকিছু অংশ ভাঙার কাজ শুরু হয়। অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ওই অংশ নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।
অভিষেকের (Abhishek Banerjee) অফিস ভাঙতে হাত লাগালেন স্থানীয়রা
সকালের পর থেকেই অফিস চত্বর কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভাঙার কাজ এগোতে থাকে। প্রশাসনের দাবি, নির্মাণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথি না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই আশপাশের বহু মানুষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তাঁদের একাংশকে হাতুড়ি হাতে ভাঙার কাজে সহযোগিতা করতেও দেখা যায়।
বহু বাসিন্দার বক্তব্য, এই কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, সমাজবিরোধীদের আনাগোনাও নিয়মিত ছিল ওই ভবনে। এলাকার মানুষের আরও দাবি, সাংসদ অফিসে এলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন কার্যত থমকে যেত। উল্লেখ্য, নিরাপত্তার অজুহাতে বহু দূর থেকেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হত। ফলে অফিস সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হত। বিপুল পুলিশ মোতায়েনের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত থাকত বলেও অভিযোগ।
অভিযানের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-কে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হয়। কিন্তু সেই নোটিসের কোনও উত্তর মেলেনি। এরপরই নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করে ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হিসেবে এই ভবন থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় সংলগ্ন বস্তির কিছু জমিও দখল করা হয়। চারতলা এই কার্যালয়ে অসংখ্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বসানো ছিল। পাশাপাশি ফুটপাথের উপর বড় আকারের জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এখান থেকেই ডায়মন্ড হারবার মডেলের বিভিন্ন পরিকল্পনা পরিচালিত হত।

আরও পড়ুন :কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন শুভেন্দু? বিস্ফোরক কথা ‘ফাঁস’ করলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়
ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি বলেন, “এটা অবৈধ এমপি-র অবৈধ অফিস৷ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার যে কেড়ে নিয়েছে এটা তাঁর অফিস৷ এই অফিসের আড়ালেই অপরাধীদের নিয়ে রাজত্ব চালাতো অভিষেক৷ লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর নামে এই জমি কিনে চার তলা নির্মাণ করেছিল৷ সেই বেআইনি নির্মাণই আজকে ভাঙার প্রাথমিক কাজ শুরু করল প্রশাসন৷ আর সবশেষে অভিষেককে গারদে পোড়া হবে৷” আমতলার এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




